অসমের ডিব্রুগড়ে অয়েল ইন্ডিয়ার তেল কেন্দ্রে বিধ্বংসী আগুন! রক্ষণাবেক্ষণের সময় হাড়হিম দুর্ঘটনা

অসমের ডিব্রুগড়ে অবস্থিত ‘অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড’-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল সংরক্ষণ কেন্দ্রে ঘটল এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড। শুক্রবার সকালে তেঙ্গাখাট এলাকার ইন্টারমিডিয়েট ট্যাঙ্ক ফার্মে (আইটিএফ) রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলাকালীন এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৫ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ডিব্রুগড়ের অসম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভালভ খোলার সময় আচমকা বিস্ফোরণ
প্রাথমিক সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের মতোই শোধনাগারের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হচ্ছিল। সেই সময় অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) সংরক্ষণ বিভাগের একটি ভালভ চালনা বা পরিচালনার কাজ করছিলেন কর্মীরা। ঠিক তখনই আচমকা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে আগুনের লেলহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে এবং তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক কর্মী আগুনের শিখায় মারাত্মকভাবে ঝলসে যান। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মৃত ব্যক্তির নাম রাজু দত্ত বলে জানা গেছে।
আহতদের তালিকায় যাঁরা রয়েছেন
দুর্ঘটনায় আহত কর্মীরা হলেন—
তাপস গগৈ (৪০)
শৈলেন গগৈ (৪৫)
কুমুদ গগৈ (৩৮)
গোলাপ দত্ত (৫৮)
ইন্দ্র গগৈ (৪০)
তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি তেঙ্গাখাট ও ডিব্রুগড় সংলগ্ন এলাকায়। জানা গিয়েছে, এই কর্মীরা মুম্বইয়ের ‘স্পেকট্রন ইঞ্জিনিয়ার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদার সংস্থার অধীনে কর্মরত ছিলেন। অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের এই প্ল্যান্টে কারিগরি ও মেকানিকাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল সংস্থাটি।
তদন্তের মুখে সুরক্ষা ব্যবস্থা
স্পেকট্রন ইঞ্জিনিয়ার্স প্রাইভেট লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার কমল ফুকন জানিয়েছেন, যন্ত্রপাতিগুলির মাসিক ও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিয়মিত সার্ভিসিং বা রক্ষণাবেক্ষণ করা হতো। এদিনও টেকনিক্যাল কাজ চলার সময়ই আচমকা এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
তবে তেল সংরক্ষণ কেন্দ্রের মতো চরম স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিকাঠামোয় নিয়মিত কাজ চলাকালীন ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভালভ চালনায় কোনো মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাই-সিকিউরিটি জোনে কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরঞ্জামের মানও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।