রাজ্যে ১ লক্ষ ১০ হাজার ডাক্তারের নাম এবার রেড লিস্টে? বিরাট পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দপ্তরের!

পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো চিকিৎসকদের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করতে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। রাজ্যে নথিভুক্ত প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার চিকিৎসকের প্রাপ্ত রেজিস্ট্রেশন, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি এবং যাবতীয় শংসাপত্র নতুন করে ফের যাচাই বা ভেরিফিকেশন করা হবে। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের (West Bengal Medical Council) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে চিকিৎসক যাচাইকরণের এই বিশেষ মেগা অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘Know Your Doctor’ বা ‘KYD’। সম্প্রতি একটি নমুনা সমীক্ষায় বেশ কিছু সন্দেহভাজন ও ভুয়ো ডাক্তারের সন্ধান মিলতেই টনক নড়ে প্রশাসনের। এর পরেই গোটা রাজ্যে নিবন্ধিত প্রতিটি চিকিৎসকের নথি পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়।
কীভাবে পরিচালিত হবে এই ‘KYD’ অভিযান? স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১ লক্ষ ১০ হাজার চিকিৎসকের তথ্য যাচাই করতে মূলত দুটি সর্বাধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে:
ম্যানুয়াল কেওয়াইডি (MKYD): যে সকল চিকিৎসক সরাসরি উপস্থিত হতে পারবেন, তাঁরা রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে গিয়ে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার আসল শংসাপত্র ও নথি জমা দেবেন।
ভিডিও কেওয়াইডি (VKYD): বয়স্ক, অসুস্থ কিংবা অত্যন্ত দূরবর্তী অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি নথি যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। প্রয়োজনে এই বিশাল কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে দক্ষ বেসরকারি এজেন্সির সাহায্যও নেওয়া হতে পারে।
ভিনরাজ্যের চিকিৎসকদের ওপর বিশেষ নজর শুধু রাজ্য নয়, ওড়িশা, বিহার, অসম ও ঝাড়খণ্ডের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলি থেকে যে সমস্ত চিকিৎসক পশ্চিমবঙ্গে এসে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন বা মাইগ্রেশন নিয়েছেন, তাঁদের ওপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ভিনরাজ্যের ওই মেডিক্যাল কাউন্সিলগুলিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধি ও আধিকারিক পাঠিয়ে তাঁদের মূল শংসাপত্রের সত্যতা যাচাই করা হবে।
ইতিমধ্যেই এই বিশাল প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য ভবনের আইটি (IT) বিভাগকে তাদের সফটওয়্যার আধুনিকীকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ভুয়ো ডাক্তারদের পাশাপাশি মৃত, চিরতরে বিদেশে পাড়ি দেওয়া কিংবা দীর্ঘকাল ধরে চিকিৎসার সাথে যুক্ত না থাকা ব্যক্তিদের নামও এই তালিকার মাধ্যমে মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হবে।