লিপবাম মেখেও কমছে না ঠোঁটের চামড়া ওঠা? শীতে খসখসে ঠোঁট থেকে বাঁচতে আজই করুন এই সহজ কাজ!

শীতকাল পুরোপুরি জাঁকিয়ে পড়ার আগেই আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বক ও শরীরের ওপর তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। বিশেষ করে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার ফলে এই সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের ঠোঁটের কোমল ত্বক। শীতে ঠোঁট ফাটা, চামড়া ওঠা কিংবা ঠোঁটে রক্ত জমাট বাঁধার মতো সমস্যা প্রায় ঘরে ঘরে দেখা দেয়। অনেকেই মনে করেন যে সারাদিন বারবার লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগালেই ঠোঁটের এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু বিউটি এক্সপার্ট ও ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠোঁটের বাহ্যিক সুরক্ষার পাশাপাশি এর ভেতরের আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং সঠিক উপায়ে যত্ন নেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। সামান্য কিছু অবহেলার কারণে ঠোঁটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও কোমলতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই শীতের শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

ত্বকের অন্যান্য অংশের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক অত্যন্ত পাতলা ও সংবেদনশীল হওয়ায় এতে কোনো তেল বা ঘাম গ্রন্থি থাকে না। যার ফলে ঠান্ডা হাওয়া লাগামাত্রই ঠোঁট দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং ফাটতে শুরু করে। এই সমস্যা থেকে চিরতরে রক্ষা পেতে ঘরোয়া কিছু প্রাকৃতিক উপায় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রথমত, ঠোঁটের মৃত কোষ বা ডেড সেল দূর করার জন্য নিয়মিত হালকা স্ক্রাবিং করা প্রয়োজন। মধু ও চিনির প্রাকৃতিক মিশ্রণ ঠোঁটে হালকাভাবে ঘষে ধুয়ে ফেললে ঠোঁটের মৃত চামড়া সহজে উঠে যায় এবং রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয়ত, রাতে ঘুমানোর আগে খাঁটি দেশি ঘি, কাঁচা দুধের সর বা নারকেল তেল ঠোঁটে লাগিয়ে রাখলে তা গভীর থেকে পুষ্টি জোগায় এবং ঠোঁটকে ফেটে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ জলের অভাবেও ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। অনেকেই শীতকালে বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর বদভ্যাস রাখেন, যা ঠোঁটের শুষ্কতা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং ঠোঁট কালো করে তোলে। ঠোঁটের প্রাকৃতিক গোলাপি আভা বজায় রাখতে বিটের রস বা গোলাপ জল তুলোয় করে নিয়মিত লাগাতে পারেন। এ ছাড়া বাইরে বের হওয়ার সময় ভালো মানের সানস্ক্রিনযুক্ত লিপবাম ব্যবহার করা বা স্কার্ফ দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা উচিত। একটু সচেতনতা এবং সঠিক ঘরোয়া যত্নের মাধ্যমেই আপনি আসন্ন শীতে আপনার ঠোঁটকে রাখতে পারেন সম্পূর্ণ সুস্থ, সুন্দর, ও আকর্ষণীয়।