মাত্র ৪৭ বছর বয়সে কেন চিরকালের মতো থেমে গিয়েছিল কিংবদন্তি সঞ্জীব কুমারের জীবন? মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে কোন রহস্য?

আজই সেই দিন অর্থাৎ ৬ নভেম্বর, যেদিন ভারতীয় সিনেমার আকাশে এক চিরকালের মতো ধ্রুবতারা নিভে গিয়েছিল। হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং বহুমুখী অভিনেতা সঞ্জীব কুমার আজকের দিনেই ১৯৮৫ সালে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে এই পৃথিবী ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছিলেন। অথচ সময়ের ধুলোও তাঁর অনবদ্য অভিনয় প্রতিভার ঔজ্জ্বল্য একটুও কমাতে পারেনি। ১৯৩৮ সালের ৯ জুলাই গুজরাটের সুরাটে জন্ম নেওয়া হরিहर জেঠালাল জারিওয়ালা থেকে ‘সঞ্জীব কুমার’ হয়ে ওঠার এই পথচলাটি যেমন রূপকথার মতো জাদুকরি ছিল, তেমনই তা ছিল কঠিন সংগ্রাম ও ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডিতে ভরা। ১৯৬০ সালে ‘হাম हिंदुस्तानी’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখার পর ‘শোলে’, ‘আন্ধি’, ‘কোশিশ’, ‘অঙ্গুর’ কিংবা ‘ত্রিশূল’-এর মতো প্রায় একশোটিরও বেশি ক্লাসিক ছবিতে নিজের অভিনয় দক্ষতার জাদুতে দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিলেন তিনি। ঝুলিতে একাধিক জাতীয় পুরস্কার থাকলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল চরম একাকীত্ব ও না পাওয়ার বেদনায় ভরপুর।

পর্দায় যাঁর সাবলীল অভিনয়ে বুঁদ হয়ে থাকত গোটা দেশ, বাস্তব জীবনে সেই সঞ্জীব কুমার নিজের মন সঁপে দিয়েছিলেন ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনীর কাছে। অভিনেত্রীর হাত ধরতে সোজাসুজি তাঁর বাড়িতেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু হেমা মালিনীর মায়ের আপত্তিতে সেই প্রেম পরিণতি পায়নি। ভালোবাসার সেই চরম আঘাত তাঁকে এতটাই ভেঙে দিয়েছিল যে তিনি আজীবন অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি তাঁর প্রতি নিঃস্বার্থভাবে প্রেম নিবেদন করা অভিনেত্রী সুলক্ষণা পণ্ডিতের ভালোবাসাকেও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ কেবল বলিউড নয়, সমগ্র দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। আজও দর্শকের হৃদয়ে এক অমর কিংবদন্তি হয়ে বেঁচে রয়েছেন অনবদ্য সেই মানুষটি।