আদালতের রায়ে চাকরি কি এক নিমেষে চলে যাবে? বিগত সরকারগুলির অস্বচ্ছ নিয়োগ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি যোগীর

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউতে আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জমকালো অনুষ্ঠানে রাজ্যের নবনিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টর বা উপ-পরিদর্শকদের হাতে সরকারি নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এই বিশেষ মঞ্চ থেকেই অতীতের সরকারগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন যে, ২০০৩ থেকে ২০১৭ সালের দীর্ঘ সময়কালে রাজ্যে যতগুলি সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল, তার প্রায় প্রতিটিই চরম অনিয়ম, স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির কলঙ্কে কলঙ্কিত ছিল। এমনকি সেই সমস্ত বিতর্কিত নিয়োগগুলির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আইনি মামলাগুলি এখনও দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অত্যন্ত জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তোলেন যে, অতীতে সংঘটিত ওই সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলাগুলির ক্ষেত্রে আদালত যদি ভবিষ্যতে চাকরি বাতিলের বা বরখাস্তের নির্দেশ দেয়, তবে সেই সমস্ত তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং তাদের পরিবারের কী দশা হবে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিগত প্রশাসনের আমলে চলা এই ভ্রান্ত ও ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগ ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান যে, তৎকালীন সময়ে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা চরম বঞ্চনার শিকার হয়েছিলেন, যা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছিল।
এর বিপরীতে নিজের সরকারের শাসনকালের সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার ওপর সর্বোচ্চ প্রাধিকার দেওয়ার নীতির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, বর্তমান ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সরকারের আমলে সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে সততা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। আজকের এই অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়।