নৈহাটির ‘বড়মা’ মন্দিরে বিরাট বদল! বদলে গেল আইকনিক ট্যাগলাইন, নেপথ্যে কোন রাজনীতি?

রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের হাওয়া এবার সরাসরি এসে লাগল নৈহাটির বিখ্যাত বড়মা মন্দিরে। এতদিন মন্দিরের দরজায় যে বিখ্যাত ট্যাগলাইনটি জ্বলজ্বল করত, তাতে এল ঐতিহাসিক পরিবর্তন। কালীপুজোর প্রাক্কালে বড়মার মন্দিরের নতুন ট্যাগলাইন হিসেবে ঘোষণা করা হলো— ‘বড়মায়ে ভক্তি, সনাতনের শক্তি।’ যদিও মন্দির কমিটি ও স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, এর নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই, সম্পূর্ণ ভক্তদের আবেগকে প্রাধান্য দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নৈহাটি মানেই বড়মার আরাধনা। সারা বছরই দূরদূরান্ত থেকে ভক্তদের ঢল নামে এই মন্দিরে। দীপান্বিতা অমাবস্যায় অরবিন্দ রোডের ওপর বিশাল মূর্তি তৈরি করে ধুমধামে পুজো হয়। চলতি বছর ১০৩ বছরে পদার্পণ করতে চলেছে নৈহাটির এই ঐতিহাসিক বড়মার পুজো। তিন বছর আগে তৃণমূল সরকারের আমলেই এই মন্দিরে নতুন করে বড়মার কষ্টিপাথরের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় থেকেই মন্দিরের বিজ্ঞাপনী ট্যাগলাইন ছিল ‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার।’ তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বাতাসে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, আর আজ তা বাস্তবে পরিণত হলো।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই বড়মার মন্দিরে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন মহলে এবং ভক্তদের কাছ থেকে বারবার প্রস্তাব আসছিল মন্দিরের ট্যাগলাইন পরিবর্তনের জন্য। অবশেষে বৃহস্পতিবার নতুন এই সনাতনী শব্দযুক্ত ট্যাগলাইন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলো। এদিনের এই ঘোষণাপর্বে মন্দির কমিটির সকল সদস্যের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
মন্দির কমিটির মুখপাত্র অনন্ত চট্টোপাধ্যায় জানান, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভক্তদের দিক থেকে লাগাতার আবেদন আসছিল যে, মায়ের ট্যাগলাইনে ‘সনাতনী’ শব্দটিকে যুক্ত করা হোক। ভক্তদের যুক্তি ছিল, বড়মা যে সকলের, তা সর্বজনবিদিত; তাই আলাদা করে তা প্রচার করার প্রয়োজন নেই। ভক্তদের সেই আবেগ ও ভালোবাসার পূর্ণ মর্যাদা দিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, রাজনৈতিক পালাবদলের ঠিক পরেই এমন একটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতীকে বদল আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, এই পরিবর্তনের পেছনে কোনো সংকীর্ণ রাজনীতি নেই। তিনি বলেন, “রাজ্যে আমাদের কর্মীরা বহু দিন ধরে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। তাই আমরা সনাতনীরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম যেন রাজ্যে সনাতনী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। মা আমাদের মুখ তুলে দেখেছেন। তবে এই ট্যাগলাইন পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। বড়মা বিশ্ববিখ্যাত এবং তিনি সকলের। ভক্তদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনেই এই পদক্ষেপ।”
বিধায়ক আরও যোগ করেন যে, নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষ ও ভক্তরা জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছিলেন যাতে পুজোর সঙ্গে ‘সনাতনী’ শব্দটি যুক্ত থাকে। এটি যেহেতু মূলত সনাতনীদের পুজো, তাই ভক্তরা বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করবেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই নতুন ট্যাগলাইনের অর্থ এই নয় যে অন্য ধর্মের মানুষদের মন্দিরে প্রবেশ নিষিদ্ধ। সকলের জন্যই বড়মার দরজা উন্মুক্ত রয়েছে। এদিন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের জন্মদিনের দিনেই এই নতুন ট্যাগলাইন ঘোষণা করতে পেরে দারুণ আনন্দিত বিধায়ক, এবং এই পুরো বিষয়টিকে তিনি শমীকবাবুকে জন্মদিনের বিশেষ উপহার হিসেবে উৎসর্গ করেছেন।