রাজডাঙায় বিলাসবহুল গাড়ির কাচ খুলতেই বেরিয়ে এলো পচাগলা লাশ! কসবার বন্ধ গ্যারাজে চরম চাঞ্চল্য

দক্ষিণ কলকাতার কসবা থানার রাজডাঙা এলাকায় বন্ধ গ্যারাজে রাখা একটি বিলাসবহুল গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হলো এক ব্যক্তির পচাগলা মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজডাঙা মেন রোডের নারকেলবাগান এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ গাড়ির ভেতর কীভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হলো, তা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হওয়ায় ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকেলের দিকে রাজডাঙা এলাকার একটি বন্ধ গ্যারাজের কাছ থেকে অসহ্য তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। বিষয়টি আশপাশের বাসিন্দাদের সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা তড়িঘড়ি কসবা থানায় খবর দেন।
বন্ধ গ্যারাজে আঁতকে ওঠার মতো দৃশ্য
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে ওই বন্ধ গ্যারাজটিতে তল্লাশি চালায়। ভেতরে রাখা একটি পরিত্যক্ত বিলাসবহুল গাড়ির দরজা খুলতেই উদ্ধার হয় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির গলিত দেহ।
পুলিশ সূত্রের খবর, গাড়িটির চারটি দরজার মধ্যে তিনটি খোলা ছিল এবং একটি লক করা ছিল। তবে দরজার সবকটি কাচ বা জানলাই ওপর পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ করা ছিল। দেহটি ইতিমধ্যেই পচে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, মৃত্যুর ঘটনাটি বেশ কয়েক দিন আগের। লালবাজারের হোমিসাইড বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, অক্টোবর মাসেই হয়তো ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে।
খুন নাকি দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু? তদন্তে লালবাজার
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মৃত ব্যক্তি সম্ভবত একজন ভবঘুরে ছিলেন। মাঝে মধ্যেই তাঁকে এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে তাঁর কোনো সন্ধান মিলছিল না। অনুমান করা হচ্ছে, গাড়ির দরজা খোলা পেয়ে আশ্রয় নিতে বা ঘুমানোর উদ্দেশ্যে তিনি ভেতরে ঢুকেছিলেন। পরবর্তীতে দরজা বন্ধ হয়ে গেলে এবং সবকটি জানলা আটকানো থাকায় অক্সিজেনের অভাবে দমবন্ধ হয়ে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
তবে এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা-ও সমানভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কাউকে খুন করে প্রমাণের উদ্দেশ্যে গাড়ির ভেতর ফেলে রাখা হয়েছিল কি না, তা জানতে তদন্তে নেমেছে ফরেনসিক দল। ঘটনাস্থল ও গাড়ির ভেতর থেকে একাধিক জরুরি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং গাড়িটির মালিকের পরিবার ও গ্যারাজ ব্যবহারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে কসবা থানা ও লালবাজারের গোয়েন্দারা।