কেপিএসসি প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে বিস্ফোরক সম্বিত পাত্র! রাহুল গান্ধীকে সরাসরি কোন বিষয়ে জবাবদিহি করতে বললেন বিজেপি নেতা?

কর্নাটক পাবলিক সার্ভিস কমিশন (কেপিএসসি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করার পাশাপাশি কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে তীব্র নিশানা করলেন বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র। তাঁর অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে রাহুল গান্ধী একের পর এক সংবাদ সম্মেলন করে কেবল মিথ্যা প্রচার করছেন। একই সঙ্গে কংগ্রেস শাসিত ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে রাহুল গান্ধীর দ্বৈত নীতিরও কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।
নিয়োগ দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য
সংবাদ সম্মেলনে সম্বিত পাত্র জানান, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি কেপিএসসি ভেটেরিনারি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার একদিন আগেই, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। ১,৪০০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য আয়োজিত এই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ এক ছাত্রের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি সামনে আসে। এরপর রাজ্য সিআইডি ও ইডি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে যে, পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক তথা এক আইএএস কর্মকর্তা একটি পেন ড্রাইভের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীর কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন। প্রশ্নপত্র বিক্রি করার জন্য ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়েছিল। সিআইডি তদন্তে প্রকাশ পায় যে, প্রশ্ন ফাঁসের বিনিময়ে ১১ জন প্রার্থীর কাছ থেকে মোট ১.৫২ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে ১.৩০ কোটি টাকাই দেওয়া হয়েছিল মূল নিয়ন্ত্রক তথা আইএএস অফিসার জ্ঞানেন্দ্র কুমারকে।
রাহুল গান্ধীকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি সম্বিত পাত্রের
ইডি-র তদন্তে এই দুর্নীতির জেরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক স্থানান্তর ছাড়াও প্রচুর সোনার গয়না এবং ২২ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি হীরার নেকলেস উদ্ধার হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে সম্বিত পাত্র বলেন, রাহুল গান্ধী মিথ্যা ছড়াচ্ছেন, কিন্তু এখন তাঁকে দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট করতে হবে যে ওই ২২ লক্ষ টাকার হীরার নেকলেসটির আসল মালিক কে।
কর্নাটকের শীর্ষ নেতৃত্বও এই দুর্নীতির ঘটনায় কাঠগড়ায় রয়েছে বলে দাবি করে পাত্র বলেন, কর্ণাটকে যা কিছু ঘটে, তা সরাসরি রাহুল গান্ধীর নির্দেশেই হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেপিএসসি দুর্নীতি নিয়ে রাহুল গান্ধী এখনও পর্যন্ত কেন মুখ খুলছেন না? তাঁর মন্তব্য, “অপেক্ষা করুন এবং দেখুন ২২ লক্ষ টাকার নেকলেসটি কার কাছে আছে। এটি সরাসরি ‘১০ জনপথ’-এর সঙ্গেই যুক্ত কি না, তা খুব শীঘ্রই স্পষ্ট হবে।”