২০২৯-এর আগেই কি মিডটার্ম পোল? মমতার বিস্ফোরক মন্তব্যে জাতীয় রাজনীতিতে চরম জল্পনা!

জাতীয় রাজনীতিতে ফের এক বড় রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি যেমন ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের জোরালো সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছেন, তেমনই প্রধানমন্ত্রী পদে রাহুল গান্ধীর প্রার্থিতা নিয়ে মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে নতুন চর্চা শুরু করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে একহাত নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

৫টি মূল বিষয় এক নজরে:

  • ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার বড় ইঙ্গিত।

  • উত্তর প্রদেশ ও পাঞ্জাবে আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে পারস্পরিক রাজনৈতিক সহযোগিতার বার্তা।

  • এসআইআর (SIR) বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও আক্রমণ।

  • রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়া নিয়ে ‘সম্মিলিত সিদ্ধান্ত’ হবে বলে মন্তব্য মমতার।

  • নির্বাচন কমিশন ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি নিশানা করে কড়া রাজনৈতিক তোপ।

রাহুল ও ইন্ডিয়া জোট নিয়ে কী বললেন মমতা?

সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীসুলভ মুখ বা প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কোনো একপেশে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এ বিষয়ে কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হবে না, বরং এটি সম্পূর্ণভাবে একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত হবে। তিনি যে এখনও ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সঙ্গেই রয়েছেন, তা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব এবং তেজস্বী যাদবরা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে এসেছিলেন। আগামী দিনে পাঞ্জাব বা উত্তর প্রদেশ থেকে আমন্ত্রণ পেলে তিনি নিজেও সেখানে প্রচারে যাবেন বলে জানান। তবে এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় বোমাটি ফাটিয়ে তিনি বলেন, “২০২৯ সালের আগে কী হয় দেখা যাক, খেলা তো শেষ। নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে পারে।”

নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ

বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ওপর আক্রমণ আরও তীব্র করেন মমতা। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং দেশের মানুষ তা বরদাস্ত করবে না। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই তাঁকে ‘ভানিশ’ কুমার বলে আসছি। যারা মানুষকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে, তাদের ক্ষমা করার প্রশ্নই ওঠে না।” সবমিলিয়ে, মমতার এই মন্তব্যকে ঘিরে এখন থেকেই দেশের রাজনৈতিক অলিন্দে নানা সমীকরণ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে।