বিমান ছিনতাইয়ের সেই ভয়ংকর ১৭ ঘণ্টা: পাসপোর্ট লুকিয়ে যেভাবে ৩৭৯ জনের জীবন বাঁচিয়েছিলেন বীর নীরজা!

সম্প্রতি ‘ফ্লাইদুবাই’-এর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপস্থিত বুদ্ধিতে ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচার ঘটনা চার দশক আগের এক ঐতিহাসিক বীরগাথাকে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। ১৯৮৬ সালে করাচি বিমানবন্দরে ‘প্যান অ্যাম ৭৩’ বিমান হাইজ্যাকের সময় শতাধিক যাত্রীর প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন ২২ বছর বয়সী ভারতীয় সিনিয়র বিমান কর্মী নীরজা ভানোট। সময় ও ঘটনার পটভূমি আলাদা হলেও বিপদকালে যাত্রীদের সুরক্ষায় আত্মবলিদান এবং বুদ্ধিমত্তার এই ঐতিহ্যই যেন ফের মিলিয়ে দিল স্মিত মচ্ছার ও নীরজা ভানোটের বীরত্বকে।
করাচিতে সেই ১৭ ঘণ্টার সংগ্রাম
মুম্বই থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট হয়ে নিউইয়র্কগামী প্যান অ্যাম ৭৩ বিমানটি করাচি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরেই ‘আবু নিদাল অর্গানাইজেশন’-এর চার সশস্ত্র জঙ্গি সেটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। সেই সময়ে বিমানে ৩৭৯ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য উপস্থিত ছিলেন। নিজের ২৩তম জন্মদিনের ঠিক দু’দিন আগে চরম সাহসিকতার পরিচয় দেন নীরজা। তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ককপিট ক্রুদের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দেন, যার ফলে পাইলট ও ককপিট কর্মীরা সময়মতো বিমান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন এবং বিমানটিকে জোর করে আকাশে ওড়ানোর পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
পাসপোর্ট লুকিয়ে রাখার মাস্টারস্ট্রোক
বিমানের অভ্যন্তরে টানা ১৭ ঘণ্টা ধরে চলা চরম আতঙ্কের মধ্যে যাত্রীদের রক্ষা করতে এক অভাবনীয় পদক্ষেপ করেন নীরজা ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁরা যাত্রীদের আমেরিকান পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টগুলি একে একে লুকিয়ে ফেলেন, যাতে জঙ্গিরা আমেরিকার নাগরিকদের সহজে চিহ্নিত করে আলাদা করতে না পারে।
ওই বিমানের এক যাত্রী ধর্মেন্দ্র শাহ পরবর্তীকালে তাঁর স্মৃতিচারণায় জানান, যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নিজের জীবনের পরোয়া না করে শেষ পর্যন্ত অসামান্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন এই তরুণী।
নীরজা ভানোটের এই আত্মত্যাগ কেবল ভারতের সীমানাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর অদম্য সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন সামরিক সম্মান ‘অশোক চক্র’-এ ভূষিত করে। ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান সরকার (তমঘা-ই-পাকিস্তান) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও (স্পেশাল কারেজ অ্যাওয়ার্ড) তাঁকে মরণোত্তর সম্মানে ভূষিত করে বিশ্বজুড়ে সাহসিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করে।