কফিপ্রেমীদের জন্য বড় চমক! বিদেশের কফি ফেল, ভারতেই মিলবে এই ৬ অদ্ভুত স্বাদের জাদুকরি কফি

প্রতি বছর ১ অক্টোবর পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক কফি দিবস’। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে দিনটি অত্যন্ত বিশেষ। কফি ছাড়া যাদের সকাল শুরু হয় না, তাদের জন্য রয়েছে এক দারুণ খবর। এমন কিছু এক্সক্লুসিভ কফি রয়েছে, যার অনন্য স্বাদ কেবল ভারতেই পাওয়া সম্ভব। কিন্তু এই বিষয়ে খুব কম মানুষই ওয়াকিবহাল। আন্তর্জাতিক কফি দিবস উপলক্ষে চলুন জেনে নেওয়া যাক ভারতের মাটিতে উৎপাদিত ও তৈরি হওয়া সেই বিশেষ কফিগুলির হদিশ।
ভারতে উৎপাদিত কফির বৈচিত্র্য সাধারণত ভারতে প্রধানত দুই ধরনের কফি উৎপাদিত হয়—অ্যারাবিকা (Arabica) এবং রোবাস্টা (Robusta)। অ্যারাবিকা কফির স্বাদ তুলনামূলকভাবে মৃদু হলেও এর দানার তীব্র সুগন্ধ বাজারে এর চাহিদা অনেক বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, রোবাস্টা কফি স্বাদে বেশ কড়া বা তীব্র হয় এবং বিভিন্ন ধরণের কফি ব্লেন্ড তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হয়। প্রথাগতভাবে কর্ণাটক, কেরালা ও তামিলনাড়ুর পশ্চিমঘাট পর্বতমালা অঞ্চলেই কফি চাষের মূল কেন্দ্র। তবে বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতেও কফি চাষ দ্রুত প্রসার লাভ করছে। বিশ্ববাজারে ভারতীয় রোবাস্টা ও অ্যারাবিকা—উভয় কফিই অত্যন্ত সমাদৃত। সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই কফি সংগ্রহ করা হয়।
ভারতে প্রচলিত ৬টি জনপ্রিয় ও অনন্য কফি
১. তন্দুরি কফি: ভারতীয় কফির বৈচিত্র্যের মধ্যে এটি অন্যতম আকর্ষণীয়। কয়লার আগুনে আগে থেকে ভালোভাবে গরম করে রাখা মাটির কাপে (কুলহাদ) যখন গরম কফি ঢালা হয়, তখন এর সঙ্গে মাটির সোঁদা গন্ধ মিশে তৈরি হয় এক অতুলনীয় ও অনন্য স্বাদ।
২. ফিল্টার কফি: দক্ষিণ ভারতের ঘরে ঘরে জনপ্রিয় হলেও বর্তমানে এটি সারা দেশেই সমাদৃত। নিখুঁত ব্রুড কফি এবং গরম ফেনা-যুক্ত দুধের এই মিশ্রণ কফিপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ।
৩. বেলা কফি: কর্ণাটকের এই বিশেষ কফিটিতে চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টির বদলে খাঁটি গুড় ব্যবহার করা হয়। ফলে এতে এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক মিষ্টি ভাব ও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ পাওয়া যায়।
৪. ডিগ্রি কফি: তামিলনাড়ুর কুম্বাকোনমের এই পানীয়টি সম্পূর্ণ গরুর দুধ দিয়ে তৈরি করা হয়, এতে এক ফোঁটাও জল মেশানো হয় না। এর খাঁটি স্বাদ যে কাউকে মুগ্ধ করবে।
৫. ‘বিটান’ কফি: আন্তর্জাতিক ক্যাপিচিনোকেও গোল দিতে পারে এই ইনস্ট্যান্ট কফি। সামান্য জলের সঙ্গে চিনি খুব ভালো করে ফেটিয়ে বা ঘুঁটে এর ওপর ক্রিমি ফেনার দারুণ আস্তরণ তৈরি করা হয়।
৬. সুক্কু ও কারুপট্টি কফি: দক্ষিণ ভারতে সর্দি-কাশির মহৌষধ হিসেবে পরিচিত ‘সুক্কু কফি’ তৈরি হয় শুকনো আদার গুঁড়ো, গোলমরিচ ও বিভিন্ন মশলা দিয়ে। অন্যদিকে, তাল-গুড় বা পাম জ্যাগারি দিয়ে তৈরি ‘কারুপট্টি কফি’-তে ক্যারামেলের মতো মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী।