বদল গেছে ১০ কোটিরও বেশি নারীর জীবন! গ্যাস থেকে শুরু করে আর্থিক সাহায্য—উজ্জ্বলা যোজনার বাম্পার সুবিধার সমস্ত তথ্য একনজরে

গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির রান্নাঘরে পরিষ্কার রান্নার জ্বালানি পৌঁছে দিতে এবং নারীক্ষমতার ভিত আরও শক্ত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে নেওয়া হয়েছিল ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’ (PMUY)। ২০১৬ সালের মে মাসে সূচিত হওয়ার পর থেকে এই প্রকল্পটি দেশের কোটি কোটি নিম্ন আয়ের পরিবারের নারীদের জীবনযাত্রার মান সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। কাঠ, কয়লা বা গোবরের মতো ক্ষতিকারক জ্বালানির ধোঁয়া থেকে মহিলাদের মুক্তি দিতে এবং তাঁদের সময় ও শ্রম বাঁচাতে এটি অন্যতম যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
৯ বছরে ১০ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে সংযোগ
২০২৫ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা সফলভাবে তার ৯ বছর পূর্ণ করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশজুড়ে সক্রিয় গার্হস্থ্য এলপিজি গ্রাহকদের মধ্যে ১০ কোটিরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী। প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়াতে পরবর্তীতে ‘উজ্জ্বলা ২.০’ শুরু হয়, যার মাধ্যমে পরিযায়ী পরিবারগুলির জন্য বড় স্বস্তি আনা হয়। ঠিকানার প্রমাণপত্র বা দীর্ঘ জটিল প্রক্রিয়ার বদলে এখন শুধুমাত্র স্বঘোষণা বা সেলফ ডিক্লারেশনের মাধ্যমেই নতুন এলপিজি সংযোগ পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, গ্রামীণ এলাকায় এলপিজি সরবরাহের পরিকাঠামো উন্নত করতে হাজার হাজার নতুন বিতরণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যার প্রায় ৯৩ শতাংশই তৈরি হয়েছে গ্রামাঞ্চলে। শুধু সংযোগ দেওয়াই নয়, সুবিধাভোগীদের নিয়মিত সিলিন্ডার রিফিল করার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কী কী আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়?
এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলিকে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার সময় ১,৬৮০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সিলিন্ডারের জামানত, প্রেশার রেগুলেটর, এলপিজি পাইপ, গ্রাহক কার্ড এবং ইনস্টলেশন বা সংযোগ স্থাপনের সম্পূর্ণ খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এমনকি তেল বিপণন সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে প্রথম এলপিজি রিফিল এবং রান্নার ওভেনও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তীতে সিলিন্ডার রিফিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভর্তুকি সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
কারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন?
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যেকোনো মহিলা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে যোগ্য।
আবেদনকারীর পরিবারটি যেন নির্ধারিত নিম্ন-আয়ের বা বঞ্চিত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরিবারের নামে আগে থেকে কোনো এলপিজি সংযোগ থাকা চলবে না।
তফসিলি জাতি (SC), উপজাতি (ST), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধাভোগী, অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY) পরিবার, এবং চা শ্রমিকদের মতো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীগুলি এই সুবিধার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
আবেদনের জন্য কেওয়াইসি (KYC), ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, পরিবারের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের আধার কার্ড এবং রেশন কার্ড বা পরিযায়ীদের ক্ষেত্রে সেলফ ডিক্লারেশন প্রয়োজন হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষা
ঐতিহ্যবাহী জ্বালানির পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহারের ফলে ঘরের ভিতরের বায়ুদূষণ ও রান্নার ধোঁয়া একঝটকায় অনেকটাই কমেছে। এর ফলে নারীদের মারাত্মক শ্বাসকষ্টজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন হ্রাস পেয়েছে, তেমনই জ্বালানি সংগ্রহের দীর্ঘ পথ চলার শারীরিক পরিশ্রমও বেঁচে গেছে। এই বাঁচানো সময়টুকু মহিলারা শিক্ষা, ছোট ব্যবসা বা অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করতে পারছেন। সবমিলিয়ে, উজ্জ্বলা যোজনা শুধু একটি গ্যাস সংযোগের প্রকল্প নয়, এটি দেশের কোটি কোটি নারীর জীবনে স্বনির্ভরতা ও সুস্থতার এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।