বাড়তি মেকিং চার্জ দিয়ে আর ঠকবেন না! জলের দরে সোনা কিনে বাজিমাত করার ৭টি দুর্দান্ত সিক্রেট উপায়

ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা এখন কেবল বিয়ের গয়না বা অলংকার কেনার গণ্ডি পেরিয়ে সোনায় বিনিয়োগের আরও স্মার্ট ও লাভজনক পথ বেছে নিচ্ছেন। আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে সরকারি বন্ড—সোনায় বিনিয়োগের বেশ কিছু দুর্দান্ত বিকল্প এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয়। এই আধুনিক উপায়গুলোতে যেমন সোনা জমানো সহজ, তেমনই মিলছে অধিক রিটার্ন ও বাড়তি নিরাপত্তার সুবিধা।

বাজারে প্রচলিত সোনায় বিনিয়োগের ৭টি প্রধান উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:

১. সভরেন গোল্ড বন্ড (SGB) ভারত সরকারের হয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এই সভরেন গোল্ড বন্ড ইস্যু করে। ফিজিক্যাল সোনার এটি একটি অন্যতম সেরা ও নিরাপদ বিকল্প। এতে সোনা চুরি যাওয়ার বা অতিরিক্ত লকার খরচের কোনো ঝামেলা নেই। বিনিয়োগকারীরা ইস্যু প্রাইস নগদে মিটিয়ে বন্ড কেনেন এবং মেয়াদ শেষে সোনার বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী টাকা ফেরত পান। এর পাশাপাশি, বছরে ২.৫০ শতাংশ হারে নির্দিষ্ট সুদও পাওয়া যায়, যা প্রতি ছ’মাস অন্তর বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

২. গোল্ড এক্সচেঞ্জ-traded ফান্ড (ETF) গোল্ড ইটিএফ-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা খুব সহজেই ডিম্যাট ফর্মে সোনা কিনতে পারেন। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) এবং বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে (BSE) এর ইউনিট কেনাবেচা করা হয়। প্রতিটি ইউনিট সাধারণত ৯৯.৫ শতাংশ খাঁটি ফিজিক্যাল সোনার এক গ্রামের সমান হয়। ফিজিক্যাল সোনার বাজারদরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় এর দাম অত্যন্ত স্বচ্ছ থাকে। এই পদ্ধতিতে সোনা ঘরে রাখার কোনো ঝুঁকি বা ঝামেলা থাকে না।

৩. ডিজিটাল গোল্ড অল্প পরিমাণে সোনা কেনার একটি অত্যন্ত আধুনিক ও জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ডিজিটাল গোল্ড। বিভিন্ন বিশ্বস্ত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সোনা কেনা যায়। বিনিয়োগের সমপরিমাণ ২৪ ক্যারেট খাঁটি ফিজিক্যাল সোনা এর ব্যাকআপ হিসেবে সুরক্ষিত ভল্টে জমা থাকে। বিনিয়োগকারীরা ডিম্যাট ফর্মে সোনা কিনে রাখতে পারেন এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিক্যাল সোনা হিসেবেও তা ডেলিভারি নিতে পারেন।

৪. সোনার বার, বিস্কুট এবং কয়েন যাঁরা এখনও ফিজিক্যাল বা আসল সোনার সম্পদে ভরসা রাখেন, তাঁদের জন্য গয়নার চড়া মেকিং চার্জ এড়ানোর সেরা পথ হলো সোনার বার, বিস্কুট বা কয়েন কেনা। গয়নার তুলনায় এগুলোতে মেকিং চার্জ অনেক কম থাকে, ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনার আসল মূল্যের প্রায় পুরো অংশটাই ধরে রাখতে পারেন। তবে এই ধরনের সোনা নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য লকার বা যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা জরুরি।

৫. গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম (GMS) বাড়িতে বা লকারে অলস পড়ে থাকা সোনাকে লাভজনক কাজে লাগাতে ২০১৫ সালে ভারত সরকার গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম চালু করে। এই স্কিমের আওতায় সাধারণ মানুষ ব্যাঙ্কে তাঁদের ফিজিক্যাল সোনা জমা রাখতে পারেন এবং তার বিনিময়ে সুদ পেতে পারেন। এটি সোনাকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করতে উৎসাহ দেয় এবং বিদেশ থেকে সোনার আমদানির ওপর নির্ভরতা কমায়।

৬. গোল্ড সেভিং স্কিম (জুয়েলার্স) দেশের বিভিন্ন নামী সোনার দোকান বা জুয়েলার্স এই বিশেষ গোল্ড সেভিং স্কিম অফার করে থাকে। সাধারণত ১১ মাস বা দুই বছরের জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। মেয়াদ শেষে জমানো টাকা দিয়ে গ্রাহকরা ওই দোকান থেকেই সোনা কিনতে পারেন। তবে এই স্কিমগুলিতে বিনিয়োগ করার আগে সংশ্লিষ্ট জুয়েলার্সের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সমস্ত শর্তাবলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

৭. গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ড গোল্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলো মূলত বিভিন্ন গোল্ড ইটিএফ-এ বিনিয়োগ করে থাকে। ‘ফান্ড অফ ফান্ডস’ হিসেবে পরিচিত এই ফান্ডগুলো পরোক্ষভাবে সোনার বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়। এই পদ্ধতিতে ফিজিক্যাল সোনার বিশুদ্ধতা যাচাই বা চুরির কোনো ভয় থাকে না। সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি (SIP)-র মাধ্যমে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে বিনিয়োগ করার জন্য অনেক সাধারণ মানুষ এই পদ্ধতিটিকে অত্যন্ত সুবিধাজনক বলে মনে করেন।