অষ্টমীর ভোগের খিচুড়ির স্বাদ এবার বাড়িতেই, রইল পুজোর স্পেশ্যাল রেসিপি

বাঙালির কাছে দেশ-বিদেশের যত ভালো ভালো খাবারই থাকুক না কেন, অষ্টমীর অঞ্জলির পর ভুরিভোঁজে ভোগের খিচুড়ির সমকক্ষ কিছু হতে পারে না। সারা বছর যতই স্বাস্থ্য সচেতন থাকুন না কেন, কোথাও ভোগের খিচুড়ি দেওয়া হচ্ছে শুনলে লাইন দেওয়ার উৎসাহ কম বেশি সকলেরই থাকে। শালপাতার বাটিতে গরম গরম খিচুড়ি আর লাবড়ার সেই অতুলনীয় স্বাদ ও সুবাস যেন মন কেড়ে নেয়। কিন্তু পুজো ছাড়াও যখন ইচ্ছে করবে, তখন কীভাবে পাবেন সেই নিখাদ স্বাদ? আর চিন্তা নেই, একেবারে প্যান্ডেলের কায়দায় বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন জিভে জল আনা সুস্বাদু ভোগের খিচুড়ি।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
গোবিন্দভোগ চাল: ৫০০ গ্রাম
মুগ ডাল: ৫০০ গ্রাম
আলু: ২টি (ডুমো করে কাটা)
ফুলকপি: পরিমাণমতো (ছোট টুকরো করা)
মটরশুঁটি: ১৫০ গ্রাম
তেজপাতা: ৩-৪টি
পাঁচফোড়ন: ১ চামচ
এলাচ: ৩টি
দারচিনি: পরিমাণ মতো
আদাবাটা: ২ চামচ
হলুদ গুঁড়ো: ১ চামচ
কাঁচা লঙ্কা: ২-৩টি
ঘি: ২ টেবিল চামচ
রান্নার তেল ও নুন: স্বাদমতো
বানানোর পদ্ধতি: প্রথমে গোবিন্দভোগ চাল এবং মুগ ডাল ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর কড়াইতে তেল গরম করে আলু, ফুলকপি এবং মটরশুঁটি অল্প আঁচে হালকা সোনালি করে ভেজে আলাদা পাত্রে তুলে রাখুন। অন্য একটি কড়াইতে মুগ ডাল শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিয়ে সেদ্ধ করে নিন।
এবার কড়াইতে সামান্য ঘি গরম করে তাতে গোটা গরম মশলা, শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা এবং পাঁচফোড়ন ফোঁড়ন দিন। ফোঁড়ন থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোলে তাতে জল ঝরানো চাল দিয়ে কিছুক্ষণ ভালো করে নাড়তে থাকুন। চাল কিছুটা ভাজা হলে তার মধ্যে আদাবাটা ও হলুদ গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
এরপর আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখা মুগ ডাল চালের মধ্যে ঢেলে দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করুন। প্রয়োজন মতো পরিমাণমতো জল ও স্বাদমতো নুন দিয়ে মাঝারি আঁচে ঢাকা দিয়ে ফুটতে দিন। চাল ও ডাল সেদ্ধ হয়ে এলে তাতে আগে থেকে ভেজে রাখা আলু, ফুলকপি ও মটরশুঁটি মিশিয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে আরও কিছুক্ষণ অল্প আঁচে রেখে সমস্ত উপকরণ ভালোভাবে মিশে যাওয়ার সুযোগ দিন। খিচুড়ি মাখা মাখা হয়ে এলে নামানোর আগে উপর থেকে এক চামচ খাঁটি ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। ব্যাস, গরম গরম খিচুড়ির সঙ্গে পাঁচ রকম ভাজা আর লাবড়া পরিবেশন করলেই জমে যাবে জিভে জল আনা ভুরিভোজ!