৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত ডেডলাইন! অপসারিত BDO প্রশান্ত বর্মনকে নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নজিরবিহীন কড়া নির্দেশ

নিউটাউনের বহুচর্চিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা হত্যা মামলায় অপসারিত বিডিও (BDO) প্রশান্ত বর্মনের ফাঁশ আরও শক্ত করল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পলাতক প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের জন্য শেষ সুযোগ হিসেবে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হচ্ছে।

আগামী ৮ অক্টোবর বিকেল ৩:৩০-এর মধ্যে তাঁকে পুলিশের কাছে হাজির হতে হবে। আদালতের এই নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বেতন বন্ধ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের কড়া নির্দেশ

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ এদিন অত্যন্ত কড়া সুর বজায় রেখে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিডিও পদে থেকেও তিনি কীভাবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে পলাতক থাকেন, তা নিয়ে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন আদালত।

আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকাগুলি হলো:

  • বেতন বন্ধ: পলাতক প্রশান্ত বর্মনের সমস্ত সরকারি বেতন অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ।

  • সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের নজির টেনে প্রশান্ত বর্মনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির তালিকা তৈরি করে তা বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সিআইডি রিপোর্ট: আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কিত বিশদ রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিআইডি (CID)-কে।

আদালতের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ও ভর্ৎসনা

নিউটাউন কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর বিডিও-কে গ্রেপ্তার করতে না পারায় বিধাননগর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল আদালত। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন:

“সুপ্রিম কোর্ট আপনার জামিন খারিজ করে দিয়েছিল, আপনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশও লঙ্ঘন করেছেন? আপনি তো খুব প্রভাবশালী ব্যক্তি!”

কী ঘটেছিল এই মামলায়?

নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। ১. এর আগে হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিধাননগর এডিজেএম আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২. প্রশান্ত বর্মন সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গেলে শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে। ৩. তা সত্ত্বেও আত্মসমর্পণ না করে গা ঢাকা দেন তিনি। ৪. মাঝখানে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে নিউটাউনেই গ্রেপ্তার হলেও রহস্যজনকভাবে জামিনে ছাড় পেয়ে যান প্রশান্ত।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার পরেও কীভাবে প্রশাসন থেকে বেতন পাচ্ছিলেন প্রশান্ত বর্মন, তা নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হতেই শেষমেশ হাইকোর্টের এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।