লাইসেন্স নেই তো ব্যবসাও বন্ধ! বিখ্যাত গ্যালিফ স্ট্রিট নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নজিরবিহীন কড়া নির্দেশ

উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী গ্যালিফ স্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী হাটসহ রাজ্যের সমস্ত পশুপাখির বাজারে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হলো, বৈধ লাইসেন্স ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে মেনে চলা ছাড়া গ্যালিফ স্ট্রিট কিংবা রাজ্যের আর কোথাও কোনো পশুপাখি কেনাবেচা করা যাবে না।

মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য প্রশাসনকে এই মর্মে কড়া নির্দেশ দিয়েছে।

“কারও কাছেই লাইসেন্স নেই!” আদালতের সামনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের পক্ষে আইনজীবী সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে এক বিস্ফোরক দাবি করে জানান, গ্যালিফ স্ট্রিটের হাটে বসা একজন ব্যবসায়ীর কাছেও পশুপাখি বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ অনুমতিপত্র নেই। সাধারণত ‘স্টেট অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ এই লাইসেন্স ইস্যু করে থাকে, কিন্তু তা ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে এখানে পশুপাখি ও পোষ্য কেনাবেচা চলছে।

এর জবাবে ব্যবসায়ীদের পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, গ্যালিফ স্ট্রিটে সুদীর্ঘ কাল ধরে ৬০০-র বেশি ব্যবসায়ী ব্যবসা করছেন এবং সেখানে কোনো বিলুপ্তপ্রায় বা সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী কেনাবেচা হয় না। তাছাড়া রঙিন মাছ, কুকুর বা গাছগাছালি বিক্রির ক্ষেত্রে লাইসেন্সের কড়াকড়ি শিথিল করার এবং আগামী রবিবার অন্তত হাট বসানোর অনুমতি দেওয়ার আর্জি জানানো হয়।

ফুটপাথ ও পথচারীদের অধিকার নিয়ে প্রধান বিচারপতির ক্ষোভ

ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পুলিশের অতিসক্রিয়তা ও তল্লাশির কারণে রুজি-রুটি বন্ধ হওয়ার অভিযোগ তোলা হলে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“কলকাতায় কী হচ্ছে আপনারা জানেন? সাধারণ মানুষের হাঁটার মতো কোনো ফুটপাথ অবশিষ্ট নেই। সবাই কোনো লাইসেন্স ছাড়াই ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। সরকার এদের থেকে কিছুই পায় না, অথচ পথচারীদের চলাচলের রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।”

১৪ অক্টোবরের মধ্যে পেশ করতে হবে রিপোর্ট

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ব্যবসায়ীদের আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে। লাইসেন্স দেখালেই কেবল পুলিশ তাদের পশুপাখি বিক্রির অনুমতি দেবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকেই গ্যালিফ স্ট্রিটসহ রাজ্যের বিভিন্ন পশুপাখির হাটে সাদা পোশাকের পুলিশ ও কাস্টমস বিভাগকে যৌথভাবে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। আগামী ১৪ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে সমস্ত পক্ষকে বিস্তারিত তদন্ত ও পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha