ককপিটে ওমানি সহ-পাইলটের প্রাণঘাতী হামলা! খুলি ভেঙে অন্ধ হওয়ার মুখে ভারতীয় ক্যাপ্টেন, কী ঘটল মাঝআকাশে?

ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামামির নজিরবিহীন ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। এই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের চিকিৎসা সংক্রান্ত নতুন রিপোর্ট সামনে আসতেই আতঙ্কের প্রহর গুনছে বিমান মহল। জানা গিয়েছে, হামলায় তাঁর মাথার খুলির হাড় ভেঙে টুকরো হয়ে গিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে তাঁর দৃষ্টিক্ষমতা এবং স্মৃতিকন্ট্রোলেও।
দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও থামানোর চেষ্টা!
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলার সময় সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মৃতিচারণ করেন ক্যাপ্টেন স্মিত। তিনি জানান:
“আমি ওকে থামানোর সবরকম চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু একদম প্রথম আঘাতেই মাথার ভেতর রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং আমার দৃষ্টিশক্তি প্রায় সম্পূর্ণ চলে যায়। চারপাশের সবকিছুই ঝাপসা হয়ে আসছিল।”
সৌদি থেকে ইউএই: চলছে জরুরি চিকিৎসা
নতুন পাওয়া চিকিৎসা সূত্রে খবর, প্রথমে যা ভাবা হয়েছিল চোট তার চেয়ে বহু গুণ বেশি গুরুতর। ঘটনার পরপরই বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় স্মিতের। পরীক্ষা করে জানা যায়, মাথা ও হাতে গভীর ক্ষত ছাড়াও তাঁর খুলির হাড় ভেঙে গিয়েছে।
মাথায় মারাত্মক চোটের ফলে তাঁর ‘অপটিক নার্ভ’ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যার কারণে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে প্রহারের ফলে তাঁর স্মৃতিশক্তিতেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। সৌদি আরবে অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) স্থানান্তর করা হয়েছে।
ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
এমন ভয়াবহ চোট পাওয়ার পর চিকিৎসকরাও তাঁর বেঁচে ফিরে আসাকে একপ্রকার অলৌকিক বলেই মনে করছেন। তবে অত্যন্ত আনন্দের খবর, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে বর্তমানে স্মিত ধীরে ধীরে হাঁটাচলা এবং নিজে মুখে খাবার খাওয়া শুরু করেছেন। মাঝআকাশে এমন বিভীষিকাময় মুহূর্তে নিজের জীবন বাজি রেখে যেভাবে তিনি পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসার ঝড় উঠেছে।