মোদী সরকার থেকে দেশের সব মুখ্যমন্ত্রী— সবাই অবৈধ! ইভিএম ও নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক দাবি কংগ্রেস সভাপতি খাড়গের

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে এক অভাবনীয় বিতর্কের জন্ম দিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। শনিবার কর্ণাটকের কালাবুরগির এক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্র সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে তোপ দাগেন তিনি। শুধু তাই নয়, বর্তমান দেশের রাজনৈতিক কাঠামোকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে লোকসভা এবং সমস্ত রাজ্য বিধানসভা অবিলম্বে ভেঙে দিয়ে ফের নতুন করে নির্বাচন করানোর দাবি তুলেছেন তিনি। খাড়গের দাবি, ইভিএম (EVM) এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর মতো প্রক্রিয়াগুলিতে বড়সড় অনিয়ম রয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, “আজ গোটা দেশ একটা অবৈধ নির্বাচনের ওপর চলছে। নরেন্দ্র মোদী একজন অবৈধ প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহ একজন অবৈধ মন্ত্রী এবং দেশের যেকোনো প্রান্তে নির্বাচিত সকল মুখ্যমন্ত্রীই সম্পূর্ণ অবৈধ। এদের সবাইকে অবিলম্বে বরখাস্ত করে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা উচিত, এবং সেই নির্বাচন অবশ্যই ইভিএম বাদ দিয়ে পুরনো ব্যালট পেপারের মাধ্যমেই পরিচালনা করতে হবে।”
ইভিএম ও এসআইআর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ: খাড়গের অভিযোগ, ইভিএমের ব্যাপক অপব্যবহার চলছে এবং খোদ সরকারি শিবিরের লোকেরাও এ বিষয়ে মুখ খুলছেন। এর পাশাপাশি, ভোটার তালিকার চলমান ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়াকেও চরম ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়াটি দেশের দরিদ্র, শ্রমিক, স্বল্পশিক্ষিত এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সরাসরি ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এর আগে জানিয়েছে যে, এসআইআর-এর পর বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম ফের তালিকাভুক্ত করতে প্রায় ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।
ইন্ডিয়া জোটের মেগা আন্দোলনের হুঙ্কার: নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত এই অনিয়ম ও ইভিএমের বিরোধিতায় দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির ‘ইন্ডিয়া’ ব্লক। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিরোধী দলগুলি যৌথভাবে গত ২ অক্টোবর থেকে আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযান চালাচ্ছে। এমনকি আগামী ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিরোধী সাংসদদের একটি প্রতিবাদী পদযাত্রারও ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা এবং ২০২৩ সালের নতুন নিয়োগ আইন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ, এই পরিবর্তনগুলি দেশের স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষে বিরোধীদের এই আন্দোলন আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।