“কিছু ঘটলে দায় কে নেবে, রাজ্য?” অভিষেকের ‘Z+’ নিরাপত্তা ছাঁটাই নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট!

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটেগরির নিরাপত্তা হঠাৎ কেন প্রত্যাহার করা হলো? মঙ্গলবার এই প্রশ্নে সরব হয়ে রাজ্যের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়ে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক কড়া প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী ১৩ অক্টোবর এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার পরবর্তী শুনানি।

আদালতের কড়া প্রশ্ন ও ভর্ৎসনা

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, ১০ মে রাজ্যে পালাবদলের পর মুহূর্তেই অভিষেকের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার পেছনে এত তাড়াহুড়ো কীসের ছিল?

রাজ্যের তরফে জবাবদিহির জন্য তিন সপ্তাহ সময় চাওয়া হলে বিচারপতি তা খারিজ করে কড়া সুরে বলেন:

“ইতিমধ্যে যদি কোনো অঘটন ঘটে যায়, তবে তার দায়িত্ব কে নেবে? রাজ্য দায়িত্ব নেবে? রাজ্য প্রস্তুত থাকলে আদালত সেইভাবেই নির্দেশ দেবে। কিন্তু বিপদ ঘটার পর মূল্যায়নের মানে কী?”

আদালতে অভিষেকের আইনজীবীদের বিস্ফোরক দাবি

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা আদালতে জানান, ২০১৬ সাল থেকে তিনি ‘জেড প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু কোনো রকম নোটিশ বা কারণ দর্শানো ছাড়াই তা নামিয়ে ‘এক্স’ (X) ক্যাটেগরি করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার অভাবের কারণে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়েছে তৃণমূল সাংসদকে:

  • ৩০ মে (সোনারপুর): দুষ্কৃতীরা ঘিরে ধরে লাঠি, ডিম ও পাথর নিয়ে হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে কোনোমতে হেলমেট পরে মোটরবাইকে চড়ে এলাকা ছাড়েন তিনি।

  • ১৯ জুন (বিমানবন্দর): এক ব্যক্তি সরাসরি রিভলভার নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছে যান।

  • ১৮ ও ১৯ জুলাই (আমতলা): ডায়মন্ড হারবারে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের পর আমতলায় গেলে তিনি পুনরায় আক্রান্ত হন।

  • ৩ সেপ্টেম্বর (ক্যামাক স্ট্র his): ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ের কাছে চতুর্থ ঘটনাটি ঘটে।

আইনজীবীদের সাফ বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বহুবারের নির্বাচিত সাংসদ এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১০ বছর ধরে পাওয়া নিরাপত্তা কোনো পূর্ব তথ্য ছাড়াই হঠাৎ কেড়ে নেওয়া বেআইনি। অবিলম্বে তাঁর ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পুনর্বহাল করার দাবি জানানো হয়েছে।