ভোট নয়, প্রহসন! রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে ইভিএম বদলের বড় আশঙ্কা, রাজপথে গর্জে উঠল কংগ্রেস

রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা। দুই কেন্দ্রেই ব্যাপক ভোট কারচুপি, এজেন্টদের মারধর এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর গুরুতর অভিযোগ তুলল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অবিলম্বে এই দুই কেন্দ্রে সমস্ত ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের (Re-Polling) দাবি জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার কলকাতায় এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন।

রেজিনগরে বুথ দখলের অভিযোগ

শুভঙ্কর সরকারের দাবি, রেজিনগরের প্রায় প্রতিটি বুথ থেকে কংগ্রেসের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার রাত থেকেই রেজিনগর থানার আইসি-র নেতৃত্বে বুথ দখলের ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর সাফ কথা, “বিজেপি ছাড়া অন্য কোনো দলের এজেন্টকে বুথের ভেতর থাকতে দেওয়া হয়নি। সাধারণ ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”

নন্দীগ্রামে বহিরাগত ও বাইক বাহিনীর তাণ্ডব

নন্দীগ্রামের উপ-নির্বাচন নিয়েও একগুচ্ছ বিস্ফোরক দাবি করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগের রাত থেকেই চণ্ডীপুর, কাঁথি এবং হলদিয়া থেকে বাইক বাহিনী ও গাড়িতে করে বহিরাগতদের নন্দীগ্রামে ঢোকানো হয়েছে। এমনকী কংগ্রেসের ব্লক সভাপতিকে জোর করে থানায় বসিয়ে রাখার অভিযোগও ওঠে। শুভঙ্করের দাবি, নন্দীগ্রামের বহু বুথ কার্যত ‘দখল’ করে নেওয়া হয়েছে এবং বুথের ভেতর গেরুয়া পোশাক ও ফেট্টি পরা লোকজন বসে ছিল।

কমিশন ও পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা

নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্রীয় কমিশন ও রাজ্য পুলিশের যৌথ ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি বলেন:

“ভোট নয়, এটা সম্পূর্ণ প্রহসনে পরিণত হয়েছে। পুলিশই সব নিয়ন্ত্রণ করছে, কমিশনের কোনো নজরদারি নেই। মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রের ভোটেই এই হাল!”

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট গ্রহণ চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের কাছে মোট ২৪টি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হলেও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। তাই এবার কমিশনকে চূড়ান্ত চিঠি দিয়ে দুই কেন্দ্রের ভোট বাতিল করার দাবি জানানো হচ্ছে।

ইভিএম বদলের আশঙ্কা ও বিস্ফোরক অডিও

সংবাদ সম্মেলনে শুভঙ্কর সরকার অভিযোগ করেন, নন্দীগ্রাম থানার পুলিশের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ভোট শেষে ইভিএম (EVM) কারচুপি বা বদল করা হতে পারে। তাই স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে শুভঙ্কর বলেন, “তিনি ও তাঁর টিম পদে বহাল থাকা পর্যন্ত দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব।” নন্দীগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আগের জয়ের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।