দ্রুত গতির জীবনে ডায়াবেটিসের থাবা! কিডনি সুরক্ষিত রাখতে এই ৫টি জরুরি নিয়ম মেনে চলুন আজই

আধুনিক ও দ্রুত ধাবমান এই জীবনযাত্রায় ডায়াবেটিস আজ ঘরে ঘরে এক নীরব মহামারীর রূপ নিয়েছে। ব্যস্ততা এবং ভুল জীবনযাপনের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা যখন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, তখন তার সরাসরি ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি—কিডনির ওপর। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে একটু সচেতনতা এবং সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কিডনিকে সুরক্ষিত রাখা সম্পূর্ণ সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক কিডনি সুস্থ রাখতে অত্যন্ত জরুরি ৫টি কার্যকর পদক্ষেপ।

১. রক্তে শর্করার মাত্রা কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখুন: কিডনি সুরক্ষার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখা। রক্তের শর্করা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মাত্রায় থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। তাই নিয়মিত সুগার পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়েট ও ওষুধ মেনে চলুন।

২. রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেসার মাপমতো রাখুন: ডায়াবেটিস রোগীদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা প্রায়শই দেখা যায়। হাই ব্লাড প্রেসার কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা ফিল্টারিং ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। প্রেসার সবসময় ১৩০/৮০ mmHg বা এর কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করুন।

৩. প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং হাইড্রেটেড থাকুন: পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেলে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন সহজেই প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। এটি কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি কমায় এবং অঙ্গটির কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তবে যাদের ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথির সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলের মাত্রা নির্ধারণ করুন।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেইনকিলার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন: সামান্য মাথা ব্যথা বা শরীরের পেশির ব্যথায় ঘন ঘন ওভার-দ্য-কাউন্টার পেইনকিলার (যেমন আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেন) খাওয়ার অভ্যাস কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এই ধরনের ওষুধ কিডনির রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ইউরিন টেস্ট করান: ডায়াবেটিস রোগীদের বছরে অন্তত একবার কিডনির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য ক্রিয়েটিনিন (Creatinine), ইজিএফআর (eGFR) এবং প্রস্রাবে প্রোটিন লিক হচ্ছে কি না তা দেখতে মাইক্রোঅ্যালবুমিন টেস্ট করানো অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।