কল্যাণীতে ‘এনআরসি’ করার ষড়যন্ত্র, এইমসের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কল্যাণী এইমস (AIIMS)-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন যে, হাসপাতালটি ‘মানসিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা’র আড়ালে আসলে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) চালুর ষড়যন্ত্র করছে। সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “স্বাস্থ্য সমীক্ষার নামে একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজ হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া যায়।” তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেন যে, রাজ্য সরকার এই ধরনের কোনো সমীক্ষা চালাচ্ছে না। যদি কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে আসে, তাহলে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে অনুমতিপত্র যাচাই করে নিতে হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, “কল্যাণীতে যে জমি এইমসের জন্য রাজ্য সরকার দিয়েছিল, তার উদ্বোধনের সময়ও আমাদের জানানো হয়নি।” তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং সেই দায়িত্ব তাদের গুরুত্ব সহকারে পালন করা উচিত। কিন্তু যদি সেই প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তবে রাজ্য সরকার তার তীব্র বিরোধিতা করবে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যের অনেক রাজনৈতিক দল মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থানকে সমর্থন জানালেও, বিরোধীরা এই অভিযোগের পক্ষে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং প্রমাণ দাবি করেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কোনো সরকারি তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় এবং অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে, বিশেষত যারা নাগরিকত্ব নিয়ে চিন্তিত। একই সঙ্গে, যদি নিম্নস্তরে তথ্য সঠিকভাবে না পৌঁছায় বা অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তবে স্বাস্থ্য খাতে জনসাধারণের বিশ্বাস কমে যেতে পারে। এখন রাজনৈতিক তর্কবিতর্কের পরিবর্তে এই বিষয়ে তদন্ত-নির্ভর তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্য সরকার যেহেতু স্বচ্ছতা এবং অনুমতির ওপর জোর দিয়েছে, তাই এখন সরকারি বা আধাসরকারি সূত্রের কাছ থেকে এই বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে সকলে।