স্টেশনের জল খাচ্ছেন? ট্রেন ধরার আগে এই মারাত্মক সত্যিটা জেনে নিন, নড়েচড়ে বসল রেল!

ট্রেন যাত্রীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার বড়সড় পদক্ষেপোল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)। রেলওয়ে চত্বর এবং বিভিন্ন স্টেশনের পানীয় জলের গুণমান যাচাই করতে পরীক্ষার মাত্রা আরও কড়া করা হয়েছে। স্টেশনগুলির বিভিন্ন যাত্রীবাহী স্থান থেকে নিয়মিত জলের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে জল কতটা নিরাপদ তা খতিয়ে দেখতে একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
রেল সূত্রে খবর, প্রধান স্টেশনগুলির পাশাপাশি প্যাসেঞ্জার ওয়েটিং রুম বা অপেক্ষাকক্ষ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কেন্দ্রগুলি থেকেও নিয়মিত জলের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। জলের পিএইচ (pH) মাত্রা, ঘোলাভাব, খনিজ বা মোট কঠিনতার পরিমাণ, নাইট্রেট, আয়রন, অবশিষ্ট ফ্রি ক্লোরিন, ক্লোরাইড, ক্ষারত্ব, ফ্লোরাইড এবং ক্যালসিয়ামের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো জলের রাসায়নিক ভারসাম্য, খনিজের সঠিক মাত্রা, স্বচ্ছতা এবং জীবাণুনাশক হিসেবে দেওয়া উপাদানের কার্যকারিতা নিখুঁতভাবে যাচাই করা। বিশেষ করে ফ্লোরাইডের মাত্রা নির্ধারিত নিরাপদ সীমার মধ্যে আছে কি না এবং জলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফ্রি ক্লোরিন উপস্থিত রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এনএফআর-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, এখনও পর্যন্ত পরীক্ষা করা সমস্ত নমুনার মান সন্তোষজনক ও নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াজনিত পরীক্ষার মাধ্যমে জলে মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর কোনো রোগজীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি আছে কি না, তাও কড়া নজরে রাখা হচ্ছে।
শুধু ল্যাবরেটরিতে জলের নমুনা পরীক্ষা করাই নয়, মাঠপর্যায়েও চলছে জোরদার তৎপরতা। পানীয় জলের প্রতিটি ট্যাঙ্ক নিয়মিত নিয়ম মেনে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত (Disinfect) করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওয়াটার কুলার, পাইপলাইন, কল এবং জল সরবরাহের সামগ্রিক পরিকাঠামো নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন রেলের প্রযুক্তিবিদরা। কোথাও সামান্য কোনো ত্রুটি বা সমস্যা ধরা পড়লেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তা সংশোধনমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের স্বাস্থ্যে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি না থাকে।