বহরমপুরের লোকসভা সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। একাংশের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনার পর ইউসুফ পাঠান সম্ভবত তাঁর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেবেন এবং বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে সংসদে প্রবেশ করবেন। এই জল্পনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যখন চাঞ্চল্য তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিজে মুখ খুলে সব জল্পনার অবসান ঘটালেন ইউসুফ পাঠান।
কী বললেন ইউসুফ পাঠান? এই ধরণের যাবতীয় জল্পনাকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাংসদ। শনিবার তিনি একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট জানান, দল বা দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁকে কোনো দিনও ইস্তফা দেওয়ার কথা বলা হয়নি। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যে খবর ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলের কোনো শীর্ষ নেতা আমার সঙ্গে এমন কোনো আলোচনা করেননি। এই ধরনের খবর শুনে আমি নিজেও অবাক এবং মর্মাহত।”
গুঞ্জনের সূত্রপাত কোথায়? গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় এই আলোচনা দানা বেঁধেছিল যে, বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ইউসুফ পাঠান ইস্তফা দিলে সেখানে উপনির্বাচন হতে পারে। এছাড়া, প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়েও কিছু ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে পড়েছিল, যা তিনি নিজেও দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যম হিসেবে কাজ করেননি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ: বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এই ধরনের জল্পনা নতুন কিছু নয়। তবে, ইউসুফ পাঠানের এই সরাসরি বয়ান এবং দলের প্রতি তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করার পর, আপাতত এই গুঞ্জন স্তিমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের কোনো সাংসদের পক্ষ থেকে এমন সরাসরি বয়ান আসাটা দলের অন্দরের বার্তা হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।





