প্রাক-বর্ষার মরশুম মানেই নবান্নে নতুনের ডাক। প্রতি বছরের মতোই এবারও রাজ্য সচিবালয়ে শুরু হয়েছে রঙের কাজ। তবে এবারের বিষয়টি কেবল রক্ষণাবেক্ষণ নয়, বরং রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরেই নবান্নের অন্দরে শুরু হয়েছে রঙের পালাবদল। আর তাতেই প্রশ্ন উঠছে— তবে কি নীল-সাদার যুগ পেরিয়ে নবান্নে এবার গেরুয়া ছোঁয়া?
রঙের ছোঁয়ায় রাজনৈতিক ইঙ্গিত? প্রতি বছর বর্ষার আগে নবান্নের বাইরের দেওয়ালে নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। কিন্তু এই বছর পরিস্থিতি ভিন্ন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবান্নের মসনদে নতুন সরকার আসায়, এই রঙের কাজটিকে রাজনৈতিক চশমা দিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। দেওয়ালে কোন রঙের প্রলেপ পড়বে, তা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
নবান্নের অন্দরের খবর: সূত্রের খবর, নবান্নের অন্দরের সাজসজ্জায় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এতদিন নবান্ন মানেই ছিল নীল-সাদা রঙের আধিপত্য। তবে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকারি ভবনগুলোর রঙের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নধর্মী পছন্দ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও প্রশাসনিক কর্তারা একে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হিসেবেই দেখছেন, তবুও নতুন শাসকের পছন্দের রঙের ছোঁয়া সচিবালয়ের দেওয়ালে দেখা যেতেই পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কেন এই জল্পনা? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তারা তাদের নিজস্ব ছাপ রাখতে চায়। বিশেষ করে সরকারি দপ্তরে রঙের পরিবর্তন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে একটি সংকেত বা ‘সিম্বল’ হিসেবে কাজ করে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত নবান্নের বাইরের দেওয়াল থেকে অন্দরমহল— ঠিক কোন রঙে সেজে ওঠে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র।
অপেক্ষা এখন রঙের কাজ শেষ হওয়ার, কারণ সেই রঙই বলে দেবে রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া কতটা গভীরে পৌঁছাল।





