প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার দাপটে শরীর ঘামছে, সেই সঙ্গে মাথার ত্বকের অবস্থাও বেহাল। ঘাম, ধুলোবালি আর চিটচিটে ভাব—সব মিলিয়ে চুল ও স্ক্যাল্পের অস্বস্তি চরমে। এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই দিনের শেষে বা সকালে উঠে রোজ শ্যাম্পু করার অভ্যাস করে ফেলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, রোজ শ্যাম্পু করা চুলের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।
কেন বাড়ছে স্ক্যাল্পের সমস্যা?
গরমকালে মাথার ত্বকে সিবাম বা প্রাকৃতিক তেলের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে ঘাম ও পরিবেশের ধুলোবালি মিশে চুলের গোড়ায় (ফলিকল) জমে যায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় খুশকি ও সংক্রমণের মতো সমস্যা। অনেকেই মনে করেন, এই ময়লা পরিষ্কার করতে বারবার শ্যাম্পু করাই একমাত্র সমাধান। কিন্তু অতিরিক্ত শ্যাম্পু চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়, যার ফলে স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে যায় এবং শরীর আরও বেশি তেল তৈরি করতে বাধ্য হয়। পরিণামে চুল দেখায় রুক্ষ ও প্রাণহীন।
চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পুর সঠিক সময়:
আপনার চুল কতদিন অন্তর ধোয়া উচিত, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে চুলের টেক্সচারের ওপর:
স্ট্রেট বা পাতলা চুল: এই ধরনের চুলে তেল দ্রুত জমা হয়। তাই ১-২ দিন অন্তর শ্যাম্পু করা প্রয়োজন।
ওয়েভি বা মাঝারি ঘন চুল: ২-৩ দিন অন্তর শ্যাম্পু করলেই চুল পরিষ্কার থাকে এবং আর্দ্রতা বজায় থাকে।
কোঁকড়ানো বা ঘন চুল: এই ধরনের চুল প্রাকৃতিকভাবে কম তেল উৎপাদন করে। তাই ৪-৭ দিনে একবার শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট।
ঘাম হলে কী করবেন?
ঘামলেই প্রতিবার শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই। ঘাম ও অস্বস্তি দূর করতে শুধু পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ও স্ক্যাল্প ভালো করে ধুয়ে নিন। আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করলে ঘাম ও ধুলো সহজেই বেরিয়ে যায়। চুলের গোড়ায় শ্যাম্পু না লাগিয়ে শুধু লেন্থে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।
শ্যাম্পু করার গোল্ডেন রুলস:
সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু: কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পুর বদলে সালফেট-মুক্ত মৃদু শ্যাম্পু বেছে নিন।
ব্যবহারের নিয়ম: শ্যাম্পু করার সময় শুধু স্ক্যাল্প বা চুলের গোড়ায় আলতো ম্যাসাজ করুন। খুব জোরে ঘষবেন না।
ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু: মাসে ১-২ বার ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন, যা স্ক্যাল্পের জমে থাকা গভীর ময়লা দূর করবে।
ড্রাই শ্যাম্পুর সতর্কতা: গরমকালে অতিরিক্ত ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, এটি স্ক্যাল্পে স্তরে স্তরে ময়লা জমিয়ে তুলতে পারে।





