সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর রাতে একটু শান্তির ঘুম সবারই কাম্য। কিন্তু বিছানায় যাওয়ার পর অনেকেরই চোখে ঘুম আসে না, কিংবা বারবার ঘুম ভেঙে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনিদ্রার পেছনে দায়ী আপনার রাতের খাদ্যতালিকা। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—রাতের খাবারে প্রাণিজ প্রোটিনের চেয়ে উদ্ভিজ্জ বা নিরামিষ প্রোটিন গ্রহণ করলে ঘুমের মান বহুগুণ বেড়ে যায়।
কেন নিরামিষ খাবার ঘুমের বন্ধু?
গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো ঘুমের জন্য শরীরে ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের ভূমিকা অপরিহার্য। এই হরমোন তৈরির মূল উপাদান হলো ‘ট্রিপটোফান’। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে থাকা কিছু বিশেষ উপাদান ট্রিপটোফানকে মস্তিষ্কে সহজে পৌঁছাতে সাহায্য করে, ফলে শরীর দ্রুত ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়। অন্যদিকে, প্রাণিজ প্রোটিন (বিশেষ করে রেড মিট) অনেক সময় এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
রাতের খাবারে কী রাখবেন, আর কী বর্জন করবেন?
উপকারী খাবার: রাতে ডাল (মুগ, মসুর), ছোলা, সয়া ও প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। এই খাবারগুলো হালকা ও সহজে হজমযোগ্য, যা গরমের রাতে শরীরকে স্বস্তি দেয় এবং গভীর ঘুমে সাহায্য করে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন: রেড মিট বা লাল মাংস (গরু ও খাসি) রাতে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এটি হজম হতে অনেক সময় নেয়, যার ফলে বুক জ্বালাপোড়া, বদহজম বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। লিন প্রোটিন হিসেবে মাছ বা মুরগির মাংস পরিমিত খাওয়া যেতে পারে, তবে রাতে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার একেবারেই বর্জন করা উচিত।
গভীর ঘুমের জন্য কিছু কার্যকরী টিপস:
১. সময়ের দিকে নজর রাখুন: ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন।
২. হালকা খাবার: রাতে ভারী খাবারের পরিবর্তে সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন।
৩. জীবনযাত্রার পরিবর্তন: নিয়ম মেনে ঘুমানোর অভ্যাস করুন এবং নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা করুন।





