চুলের রং নির্ভর করে মেলানোসাইট স্টেম সেল নামক বিশেষ কোষের ওপর। জিনগত কারণ এবং পারিপার্শ্বিক চাপে এই গুরুত্বপূর্ণ কোষটি দুটি ভিন্ন পথে যেতে পারে: একটি হলো বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তন (চুল পাকা), অন্যটি হলো ত্বকের সবচেয়ে মারাত্মক ক্যান্সার—মেলানোমা (Melanoma)। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, চুল পেকে যাওয়া আসলে পরোক্ষভাবে ক্যান্সার থেকে বাঁচার একটি কৌশল!
এখানে পারিপার্শ্বিক চাপ বলতে বোঝানো হচ্ছে সেই উপাদানগুলিকে, যার উপস্থিতিতে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেহে ফ্রি র্যাডিক্যালের মাত্রা বেড়ে যাওয়াও এমন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কেন চুল পাকে?
ইঁদুরের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে: কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন স্থায়ীভাবে থেমে যেতে পারে। এরকম ঘটলে চুলের রঙের জন্য দায়ী স্টেম সেলগুলো আর কাজ করতে পারে না বা কমে যায়। ফলে চুল রং হারায়—অর্থাৎ চুল পেকে যায়।
ক্যান্সার থেকে বেঁচে যাওয়া: এক অদ্ভুত সুরক্ষা
চুল পেকে গেলে মন খারাপ হলেও, এর পেছনের বিজ্ঞানটি কিন্তু খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। লক্ষ্য করুন, কোষের বৃদ্ধি থেমে যাওয়ার কারণেই চুল পাকছে।
জিনগত কারণ এবং পারিপার্শ্বিক চাপে যে কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা যদি চুল পেকে যাওয়ার মতো এই বয়সজনিত পরিবর্তনের দিকে না যেত, তাহলে কী হতে পারত?
-
বিপদ: তখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকত। সেই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকেই সৃষ্টি হতে পারত ক্যান্সার।
-
সুরক্ষা: কিন্তু কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন থেমে গেলে ওই ক্ষতিগ্রস্ত কোষ থেকে আর ক্যান্সার হতে পারে না। অর্থাৎ, পাকা চুল সৃষ্টির এই ঘটনার কারণে পরোক্ষভাবে দেহ ওই মারাত্মক ক্যান্সার থেকে রক্ষা পায়।
যখন হয় ক্যান্সার: চুল না পাকার বিপদ
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কখন কোষটি ক্যান্সার হবে আর কখন তা চুল পাকিয়ে ‘শান্ত’ হবে, তা নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক চাপের ধরনের ওপর।
-
কারসিনোজেনের ভূমিকা: ধরা যাক, ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ-যুক্ত মেলানোসাইট স্টেম সেলের ওপর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির মতো কোনো নির্দিষ্ট কারসিনোজেনের প্রভাব পড়ল। কারসিনোজেন হলো এমন উপাদান, যার প্রভাবে ক্যান্সার হতে পারে।
-
বিপজ্জনক ফলাফল: কারসিনোজেনের প্রভাব থাকলে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন আর বন্ধ হবে না, বরং চলতেই থাকবে। তখন চুলের রঙের জন্য দায়ী স্টেম সেলের পরিমাণও কমবে না, ফলে চুলও পাকবে না!
-
ক্যান্সারের ঝুঁকি: কিন্তু এই অস্বাভাবিক বিভাজন চলতে থাকবে অনেকটা নিভৃতে, ফলে সৃষ্টি হবে ক্যানসারের ঝুঁকি।
অর্থাৎ, ইউরোপিয়ান মেডিকেল জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, চুল পেকে যাওয়া অনেক ক্ষেত্রে কোষের ডিএনএ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ক্যান্সার থেকে বাঁচার একটি জৈবিক প্রতিরক্ষা প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে।