১৯৬২-র হারের গ্লানি বনাম সার্জিক্যাল স্ট্রাইক: প্রতিরক্ষায় মোদি বনাম নেহরু, এক তুলনামূলক বিশ্লেষণ

ইয়ে নয়া ভারত হ্যায়, ঘর মে ঘুসকে মারেগা…’—দেশীয় প্রতিরক্ষার বর্তমান চিত্রপট এখন এমনই। অতীতে সীমান্তে প্ররোচনা বা আক্রমণের শিকার হয়ে নীরবে সহ্য করার দিন শেষ। আধুনিক ভারত এখন শত্রুর চোখে চোখ রেখে পালটা আঘাত করতে জানে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক থেকে বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক—প্রতিরক্ষার এই আক্রমণাত্মক নীতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন উচ্চতায় বসিয়েছে। অনেকের মতে, প্রতিরক্ষা কৌশলে তিনি তাঁর পূর্বসূরি জওহরলাল নেহরুকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছেন।

নেহরু বনাম মোদি: প্রতিরক্ষার ভিন্ন চিত্র ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, সবসময়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তপ্ত সীমান্তে থাকতে হয়। স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিজস্ব শৈলীতে এই সমস্যার মোকাবিলা করেছেন। কিন্তু মোদি সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি অনেকটা ‘স্ট্রেটকাট’। আক্রমণের অপেক্ষায় না থেকে, শত্রুকে তাদের ডেরায় গিয়ে পরাস্ত করাই এখন নয়া ভারতের কৌশল।

১৯৬২-এর সেই ব্যর্থতা ইতিহাস সাক্ষী, জওহরলাল নেহরুর জমানায় ১৯৬২ সালের চিন-ভারত যুদ্ধ দেশের প্রতিরক্ষার ইতিহাসে এক বড় ধাক্কা। তিব্বতি ধর্মগুরু দলাই লামাকে আশ্রয় দেওয়ার পর বেজিং-এর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে, যা শেষ পর্যন্ত সামরিক পরাজয়ে পর্যবসিত হয়। তৎকালীন ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ’র আক্ষেপ ছিল, সেনাপ্রধানের পরামর্শ না শুনলে ভারতের এই গোহারা হার এড়ানো যেত। অনেকে মনে করেন, সেই হারের মনস্তাত্ত্বিক মাসুল ভারত আজও কিছুটা হলেও বইছে।

নয়া ভারতের ‘অফেন্সিভ’ ডিফেন্স বিপরীতে, নরেন্দ্র মোদির জমানায় ভারত সম্পূর্ণ অন্য ছবি দেখিয়েছে। যার মূল ভিত্তি হলো—সক্রিয় প্রতিরোধ (Proactive Defense):

  • উরির সার্জিক্যাল স্ট্রাইক: পাকিস্তানি জঙ্গিরা সেনা ছাউনিতে হামলা চালালে, ভারত সীমান্ত পেরিয়ে তাদের লঞ্চপ্যাড গুঁড়িয়ে দিয়ে আসে।

  • বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক (২০১৯): পুলওয়ামায় জইশ-ই-মহম্মদের হামলার বদলা হিসেবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করে ভারতীয় বায়ুসেনা।

  • অপারেশন সিঁদুর: দেশের সুরক্ষায় বিভিন্ন গোপন অভিযানে ভারতের সক্ষমতা বিশ্বকে নতুন করে জানান দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy