রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হলো মঙ্গলবার। হাওড়ার উলুবেড়িয়া ২ ব্লকের জোয়ারগোড়ি গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো কেন্দ্রের নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘বিকশিত ভারত – রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন গ্রামীণ’ বা VB-G RAM G। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের হাত ধরে এই প্রকল্পের যাত্রার সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিজেই কোদাল হাতে ন্যাচা খাল সংস্কারের কাজে যোগ দিয়ে কাজের বার্তাকে প্রত্যক্ষ রূপ দেন।
১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি:
দিলীপ ঘোষ জানান, এই নতুন প্রকল্পের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাজের সংস্থান। মনরেগার ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে এখন থেকে বছরে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি পাবেন গ্রামীণ শ্রমিকরা। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দক্ষ, অর্ধ-দক্ষ এবং অদক্ষ—সব শ্রেণির শ্রমিকরাই এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। রাস্তা নির্মাণ, খাল সংস্কার থেকে শুরু করে প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার তৈরির মতো পরিকাঠামোগত কাজে শ্রমিকদের নিয়োজিত করা হবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করেছেন, এই প্রকল্প সেই ভিশনেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছতার অঙ্গীকার:
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত চার বছর দুর্নীতির কারণে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের কাজ থমকে ছিল। তিনি বলেন, “মনরেগা প্রকল্পে বহু ভুয়ো জব কার্ডধারীর নাম ছিল, যার ফলে সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাৎ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—যারা প্রকৃত কাজ করবেন, তারাই যেন প্রাপ্য অর্থ পান।” সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেত্রে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) যাচাইকরণ প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য ভোটার তালিকায় নাম থাকা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে রাজ্য সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আর্থিক বরাদ্দ ও রূপরেখা:
এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এছাড়াও রাস্তা, শৌচাগার নির্মাণ ও সার্বিক গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য আরও ১৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং এর ফলে গ্রামীণ পরিকাঠামোয় এক বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।
তৃণমূলকে কড়া নিশানা:
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকেও তীব্র আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। ফুটপাতে হকার বসিয়ে তোলা আদায়ের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাফেরায় ব্যাপক সমস্যা হচ্ছিল। তবে হকারদের জন্য ভবিষ্যতে বিকল্প ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক, আমতার বিধায়ক ও জেলাশাসকসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে VB-G RAM G প্রকল্পটি বাংলার গ্রামীণ কর্মসংস্থানে এক নতুন দিশা দেখাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।





