হরমুজ প্রণালীর দখল কার? শান্তিচুক্তির মধ্যেই ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাল তেহরান!

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় কি এবার ইতি পড়তে চলেছে? আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের চরম শত্রুতার বরফ গলার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ের পৌঁছেছে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববাসী, তবুও এই খবরটি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বড়সড় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

এই শান্তিচুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। আমেরিকার প্রধান শর্ত ছিল, ইরানকে তাদের মজুত ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে। অতীতে এই শর্ত নিয়ে তেহরান কঠোরভাবে আপত্তি জানালেও, সাম্প্রতিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরান নীতিগতভাবে এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। দুই শীর্ষ মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে তেহরান এখন অনেকটাই নমনীয়। তবে ইউরেনিয়াম নিষ্কাশনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা এখনও বাকি রয়েছে। বৃহত্তর চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার পরেই এ বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হবে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এই ইউরেনিয়াম শেষ পর্যন্ত কার হাতে পৌঁছাবে? এর আগে শোনা গিয়েছিল, আমেরিকা নয়, বরং রাশিয়াকে ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে ইরান এবং ট্রাম্প নিজেও তাতে সায় দিয়েছেন। এখন বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা তাকিয়ে আছেন, ইরান শেষ পর্যন্ত রাশিয়া নাকি আমেরিকার কাছে এই সংবেদনশীল উপাদান হস্তান্তর করে, তা দেখার জন্য।

অন্যদিকে, শান্তিচুক্তির অপর একটি বড় শর্ত ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, তেহরান এই বিষয়েও সম্মত হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। তেহরানের সাফ কথা, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ এবং কর্তৃত্ব বজায় থাকবে। যুদ্ধের আগের মতো জাহাজের অবাধ চলাচল সম্ভব নয়, বরং তারা কেবল হরমুজ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যাকে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে রাজি হয়েছে। অর্থাৎ, মার্কিন চাপের কাছে পুরোপুরি নতি স্বীকার করার ইঙ্গিত দেয়নি ইরান।

এই শান্তিচুক্তির ঘোষণা যেমন এক অদ্ভুত স্বস্তি নিয়ে এসেছে, তেমনই চুক্তির শর্তগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন জটিলতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একদিকে ইরানের জেদ, অন্যদিকে আমেরিকার কড়া শর্ত—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রেখে চুক্তি কতদূর সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বড় বিষয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বিশ্ববাজারে তেলের দাম থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করবে। আপাতদৃষ্টিতে ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তির মাধ্যমে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য দেখানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু এর প্রতিটি শর্তের খুঁটিনাটি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। গোটা বিশ্বের চোখ এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy