রাজ্যের প্রতিটি সরকারি স্কুল এবং মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এই নির্দেশিকা জারির পরই রাজ্যের শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। শিক্ষার আঙিনায় জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের সংস্কৃতি নতুন নয়, তবে মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বিশেষ নির্দেশিকা জারি হওয়ায় নানা মহলে নানারকম প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে খোদ নখোদা মসজিদের ইমামের একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিন স্কুলের প্রাতঃকালীন প্রার্থনার সময় বা নির্ধারিত সময়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক। সরকারের দাবি, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ এবং জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। একদিকে যখন একাংশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন যে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের এই গান গাওয়া উচিত, তখন অন্যদিকে মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠানের একাংশ এই নির্দেশিকাকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন।
এই ইস্যুতেই নখোদা মসজিদের ইমাম এবার সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাদ্রাসার নিজস্ব একটি কাঠামো এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য রয়েছে। সেখানে কোনো বিষয় বাধ্যতামূলক করার আগে সরকারকে সবদিক খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। আমরা দেশপ্রেমের বিরোধী নই, কিন্তু জোর করে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়। ইমামের এই কথাকে হাতিয়ার করে বিরোধী শিবির একদিকে যেমন সরকারের ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাবের নিন্দা করছে, তেমনই শাসকদল পালটা দাবি করেছে, যারা বন্দে মাতরম গাইতে অস্বীকার করে, তারা আসলে দেশের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে চায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। মাদ্রাসাগুলোতে এই নিয়ম কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও ইতিমধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি প্রশাসনিক নির্দেশ, যা রাজ্যের সব সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যই প্রযোজ্য। এখানে কোনো ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই, বরং জাতীয়তাবোধকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এখন বড় প্রশ্ন হলো, মাদ্রাসার পরিচালন সমিতিগুলি এই সরকারি নির্দেশ কীভাবে গ্রহণ করবে? তারা কি আদালতের দ্বারস্থ হবে, নাকি সরকারের সাথে আলোচনার পথে হাঁটবে? এই টানাপোড়েনের মাঝে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা উদ্বেগে রয়েছেন। কারণ, শিক্ষাপ্রাঙ্গণ এখন রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সব মিলিয়ে, রাজ্য সরকারের এই বন্দে মাতরম সংক্রান্ত নির্দেশিকা আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নখোদা মসজিদের ইমামের এহেন বিস্ফোরক মন্তব্যের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





