‘মমতার ম্যাজিক কাজ করেনি, ডুবিয়েছে আইপ্যাক!’ বিস্ফোরক পার্থর নিশানায় অভিষেক ও নতুন নেতৃত্ব

তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। শিউলি সাহার মতো নেতাদের আইপ্যাক (I-PAC) বিরোধী সুরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন বর্ষীয়ান নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দলের হারের জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন আইপ্যাকের হস্তক্ষেপ, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং নতুন প্রজন্মের নেতাদের অতি-আত্মবিশ্বাসকে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, তৃণমূলের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল ‘মমতা ম্যাজিক’। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই ম্যাজিক কাজ না করার পিছনে রয়েছে অবিশ্বাসের বাতাবরণ। তিনি বলেন, “নির্বাচন অনেকটা গণিতের মতো, আমাদের দলের সেই গণিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আইপ্যাক বা এই ধরণের সংস্থাগুলো দলে এসে যে বিভাজনের রাজনীতি করেছে, তা কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। তারা সংগঠনকে গুরুত্ব না দিয়ে ব্লক বা মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মতামতকে পুরোপুরি উপেক্ষা করেছে।” আইপ্যাককে ‘ছাইপ্যাক’ বলে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, যে সংস্থাকে কংগ্রেসকে ডুবানোর অভিযোগ রয়েছে, তাদের ওপর ভরসা করেই তৃণমূল নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছে।

দলের পরাজয়ের পেছনে পার্থবাবু বিশেষ করে আঙুল তুলেছেন দলের ‘নতুন সংস্কৃতি’ ও তাদের আচরণের দিকে। তাঁর কথায়, “বাংলার সংস্কৃতিতে ‘তুই-তুকারি’ করা বা গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। চল্লিশ বছরের নিচে কিছু নেতা, যারা নিজেকে সর্বেসর্বা মনে করত, তাদের ঔদ্ধত্য দলটাকে শেষ করেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আইপ্যাকের প্রস্তাবগুলো আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাব হিসেবেই গণ্য হতো, যা দলের পুরনো এবং অভিজ্ঞ নেতাদের দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ৭৪ জন বিধায়ককে টিকিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে দলের সাংগঠনিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

সওকত মোল্লার মতো নেতাদের কেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “সবকিছুকেই যেন অস্থায়ী করে দেওয়া হয়েছিল। কেবল নিজে স্থায়ী থাকার এই প্রবণতা দলটাকে ডুবিয়েছে।” হারের দায় কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের? এই প্রশ্নের উত্তরে পার্থবাবু বলেন, “নিশ্চয়ই ব্যর্থতা আছে। ২১১ থেকে সংখ্যাটা ৮০-তে নামিয়ে আনার দায় সেনাপতিরই। তবে শুধু সেনাপতি নয়, এই ব্যর্থতার দায় আইপ্যাক এবং নেত্রীর চারপাশের সেই তথাকথিত পরামর্শদাতাদেরও, যারা সঠিক তথ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছাতে দেয়নি।”

পরিশেষে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল আজ যে সংকটের মুখে, তা মূলত দলের মাটি থেকে উঠে আসা কর্মীদের আবেগ ও ঘাসফুল চিহ্নের অমর্যাদার ফসল। তৃণমূলের ‘মাটির ঘ্রাণ’ হারিয়ে ফেলা এই হারের জন্য দায়ী বলে মনে করেন তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy