‘বুলডোজার অ্যাকশন’ বনাম প্রতিরোধ, হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে বামেরা?

বাংলায় পরিবর্তনের নতুন পর্বে রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশনে রেলের জমিতে হকার উচ্ছেদ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের জমানায় হাওড়া, শিয়ালদহ থেকে শুরু করে যাদবপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশনে চলছে এই উচ্ছেদ অভিযান। এই প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের সুযোগ নিয়ে রাজপথের লড়াইয়ে কার্যত এককভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সিপিআইএম।

বুলডোজার বনাম সিপিআইএম হকারদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে গার্গী চট্টোপাধ্যায়, ময়ূখ বিশ্বাস, সৃজন ভট্টাচার্যদের মতো বাম নেতাদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে তীব্র প্রতিরোধ। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা— “পশ্চিমবঙ্গে কোনো বুলডোজার অ্যাকশন চলতে দেওয়া হবে না।” পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের বিরোধিতায় পথে নেমে বামেরা নিজেদের হারানো বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তৃণমূলের পিছুটান ও বামেদের কৌশল রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল বর্তমানে এক চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবলীনা শেঠের কথায়, “তৃণমূল আজ অস্তিত্বের সংকটে। সেখানে একটি রেজিমেন্টেড দল হিসেবে সিপিআইএম নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক।” তবে এই প্রতিরোধ যে কেবল ভোট রাজনীতির জন্য, তা মানতে নারাজ বাম নেতৃত্ব। ময়ূখ বিশ্বাসের দাবি, এটি তাদের নীতিগত অবস্থান। বামেদের পাল্টা যুক্তি, ১৯৯০-এর দশকের ‘অপারেশন সানশাইন’-এর সঙ্গে বর্তমান উচ্ছেদের মৌলিক পার্থক্য হলো— সেই সময় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

রাজনৈতিক লড়াই কতটা কঠিন? যদিও বামেদের এই আন্দোলন প্রশংসা কুড়াচ্ছে, তবুও লড়াইটা মোটেও সহজ নয়। অধ্যাপক দেবলীনা শেঠের মতে, নতুন সরকার খুব সহজে বিরোধী দলকে জমি ছাড়বে না। বিশেষ করে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে বামেদের এই উত্থানকে রুখতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করা হবে। এছাড়া, সাধারণ মানুষ বর্তমানে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ মোডে রয়েছে।

ভোটের সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড় ভাঙন ধরলেও, এখনো একটি বড় অংশের ভোট তাদের সঙ্গে রয়েছে। বামেরা হকার আন্দোলনের মাধ্যমে সেই বিক্ষুব্ধ ভোটারদের কতটা নিজেদের দিকে টানতে পারে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা একমত যে, এই আন্দোলনের ফলে পথে নেমে লড়াই করার প্রশ্নে তৃণমূলের চেয়ে বামেরা অনেক বেশি সক্রিয় এবং জনসচেতনতায় তারা কিছুটা হলেও এগিয়ে আছে।

এখন দেখার বিষয়, এই হকার আন্দোলন কেবল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি এটি সিপিআইএম-এর পুনরুত্থানের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy