জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ থেকে অর্ডার করা বিরিয়ানির প্লেটে পাওয়া গেল মরা মাছি! এই অখাদ্য পরিবেশনের জেরে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে কড়া শাস্তির মুখে ফেলল পুদুচেরির জেলা উপভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (District Consumer Disputes Redressal Commission)। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ক্ষতিপূরণ বাবদ ওই গ্রাহককে ১০ হাজার টাকা এবং তার পাশাপাশি ১০ প্লেট হায়দরাবাদি চিকেন বিরিয়ানি বিনামূল্যে প্রদান করতে হবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পুদুচেরির এমজি রোডে অবস্থিত ‘বিরিয়ানি অ্যান্ড কোং’ (Biryani & Co.) রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন গ্রাহক পি. সুন্দরকুমারা মানিকন্দন। খাবারের প্লেটে মরা মাছি দেখতে পেয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ ঘটনার ছবি ও ভিডিও তুলে রাখেন এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ জানান। কিন্তু রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পাওয়ায় তিনি উপভোক্তা আদালতের দ্বারস্থ হন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: মামলার শুনানির সময় কমিশন পর্যবেক্ষণ করে যে, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক অবস্থায় ঘটনাটি অস্বীকার করলেও, গুগলের রিভিউ সেকশনে ক্ষমা চেয়েছিল এবং ঘটনাটি স্বীকার করে নিয়েছিল। আদালতের মতে, রেস্তোরাঁটির এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং এটি স্পষ্টভাবে পরিষেবায় খামতি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের পরিচয় দেয়।
আদালতের রায় ও নির্দেশ: গ্রাহকের মানসিক যন্ত্রণা ও পরিষেবায় গাফিলতির কথা বিবেচনা করে কমিশন নিচের নির্দেশগুলো জারি করেছে:
আর্থিক ক্ষতিপূরণ: গ্রাহককে মানসিক হয়রানি বাবদ ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
লিটিগেশন খরচ: মামলা পরিচালনার খরচ হিসেবে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিনামূল্যে বিরিয়ানি: আদালত রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে গ্রাহককে ১০ প্লেট হায়দরাবাদি চিকেন বিরিয়ানি বিনামূল্যে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বিরিয়ানি প্রদানের নিয়ম: এই ১০ প্লেট বিরিয়ানি পর পর পাঁচটি রবিবারে (প্রতি সপ্তাহে ২ প্লেট করে) প্রদান করতে হবে। আদালতের আদেশ পাওয়ার সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এবং খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা বিধি বজায় রাখতে হবে।
এই রায়টি গ্রাহক সুরক্ষা এবং রেস্তোরাঁগুলোর স্বাস্থ্যবিধির প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি নজির হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা।





