তৃণমূলের অন্দরে কি তবে ধস নেমেছে? ২১ মে অনুষ্ঠিত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের যে প্রাথমিক ফলাফল ও ট্রেন্ড সামনে আসছে, তা যেন এক রাজনৈতিক ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রবিবার সকাল থেকেই চলছে ভোট গণনা, আর তাতেই কার্যত উবে গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব। একসময়ের শাসকদলের এই করুণ পরিণতির পিছনে অনেকেই প্রার্থী বদল ও তৃণমূলের অন্দরমহলের টানাপোড়েনকে দায়ী করছেন।
গণনার প্রতিটি রাউন্ডে বিজেপির জয়জয়কার ও সিপিএম-এর প্রত্যাবর্তন ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। প্রথম রাউন্ড থেকেই গেরুয়া শিবির যে দাপট দেখাতে শুরু করেছিল, তা শেষ পর্যন্ত অপ্রতিহত ছিল। প্রথম রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রায় ৯,০০০ ভোটে এগিয়ে ছিল, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল সিপিএম। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডের গণনায় বিজেপির ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ১২,৫৬৩ ভোটে। এই পর্যায়ে সিপিএম ৩,৩২০ ভোট পেলেও তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র ৪৮১টি। অর্থাৎ, তৃণমূলের ভিত্তিভূমি যে আলগা হয়ে গিয়েছিল, তা ফলাফলের গাণিতিক হিসাবেই স্পষ্ট।
ষষ্ঠ রাউন্ডের গণনা শেষে চিত্রটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। দেখা যাচ্ছে, বিজেপি প্রার্থী বিশিষ্ট আইনজীবী দেবাংশু পাণ্ডা ৩৭,৪৭৪ ভোট নিয়ে এক বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, সিপিএম প্রার্থী শম্ভু কুড়মি ১৭,৭৭৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে নিজের জায়গা মজবুত করেছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল রেজ্জাক মোল্লা, যার প্রাপ্ত ভোট ৩,৭৮৪। আর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভাগ্যে জুটেছে মাত্র ১,৯০৪টি ভোট। সব মিলিয়ে বিজেপি প্রায় ১৯,৭০১ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতায় তৃণমূলের এই শোচনীয় পরাজয়ের পিছনে রয়েছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া। প্রার্থী অদলবদল এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী মনোভাবের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যালট বক্সে। ‘পুষ্পা’ সিনেমার সংলাপের মতো তৃণমূল প্রার্থী আগেই হাল ছেড়ে দিয়েছিল কি না, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। তবে আসল চমক হলো সিপিএম-এর ঘুরে দাঁড়ানো। একদা শক্তিশালী তৃণমূলকে পেছনে ফেলে সিপিএম এখন ফলতায় প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। এই ফলাফল কেবল একটি জয় নয়, বরং ফলতার রাজনৈতিক মানচিত্রের পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা। তথ্যসূত্র: এশিয়ানেট নিউজ বাংলা।





