ভারতের জনপ্রিয় শিক্ষক ও ডিজিটাল আইকন ফয়সাল খান, যিনি সকলের কাছে ‘খান স্যার’ নামে পরিচিত, তিনি এক বড় আইনি স্বস্তি পেলেন। চলতি মাসের শুরুতে তাঁর কোচিং সেন্টারে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর গুলি চালনার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ প্রদান করেছে। মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ বা তদন্তকারীরা খান স্যারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলেও, এই নির্দেশ কার্যকর থাকা পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি করা যাবে না।
গত ২ জুন পাটনার ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’ (KGS)-এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতির উত্তাপ বৃদ্ধি পায়। অভিযোগ ওঠে, একদল দুষ্কৃতী কোচিং সেন্টারে পাথর ছুঁড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল। পরদিন একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় খান স্যারের কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষীরা শূন্যে গুলি চালাচ্ছেন। এরপরই কদমকুয়া থানার পুলিশ দুই নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করে এবং তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে। পরবর্তীতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে ওই দুই রক্ষীকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়।
এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে পালটাপালটি অভিযোগের লড়াই। খান স্যার দাবি করেছিলেন, কোনো এক প্রতিদ্বন্দী কোচিং সেন্টারের প্ররোচনাতেই তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ কোচিং সেন্টারের দাবি, পুরো ঘটনাটি খান স্যার নিজেই সাজিয়েছেন এবং নিরাপত্তারক্ষীদের গুলি চালানোর ভিডিওটি তারই প্রমাণ। যদিও খান স্যার এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার শুনানির শেষে আদালত পুলিশের কাছে মামলার কেস ডায়েরি এবং সংগৃহীত প্রমাণপত্র তলব করেছে। আপাতত খান স্যারের জন্য এই স্বস্তির বার্তা এল, তবে মামলার অপর এক অভিযুক্ত রওশন আনন্দের জামিনের রায়ের বিষয়টি আদালত স্থগিত রেখেছে। আপাতত গোটা ঘটনার তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে শিক্ষা মহল।





