ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে ১০ জুন, ২০২৬ এক ঐতিহাসিক দিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই দিনে জওহরলাল নেহরুর দীর্ঘতম সময়কাল ধরে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড অতিক্রম করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেন। এই মাইলফলকটি কেবল রাজনৈতিক স্থায়িত্বের নয়, বরং গত এক দশকে ভারতের অবকাঠামোগত রূপান্তরেরও এক জীবন্ত দলিল।
সড়ক উন্নয়নের দুই অধ্যায়: জাতীয় সড়কের বিস্তৃতি পর্যালোচনা করলে দুই প্রধানমন্ত্রীর কর্মপদ্ধতির বিশাল পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৫১ থেকে ১৯৬১—এই এক দশকে ভারতে প্রায় ৩,৯৮৭ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক যুক্ত হয়েছিল। সে সময় ভারত ছিল সদ্য স্বাধীন, তাই আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেই ছিল মূল মনোযোগ। বিপরীতে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীর শাসনামলে এই চিত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন। এই সময়ে ভারত প্রায় ৫৪,৯০৮ কিলোমিটার নতুন জাতীয় সড়ক যুক্ত করেছে, যা এক দশকের ব্যবধানে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
গতির লড়াই: নির্মাণশৈলীতে গতিই এখন উন্নয়নের মূলমন্ত্র। ২০১৪-১৫ সালে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২ কিলোমিটার সড়ক তৈরি হতো, ২০২০-২১ সালে তা রেকর্ড ৩৬.৫ কিলোমিটারে পৌঁছায়। বর্তমানে এই নির্মাণের হার গড়ে প্রতিদিন ২৮ কিলোমিটারেরও বেশি। কেবল দৈর্ঘ্য নয়, চার লেন বা তার বেশি প্রশস্ত মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১৮,২৭৮ কিমি থেকে বেড়ে ৪৫,৯৪৭ কিমি হয়েছে। পাশাপাশি, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারসম্পন্ন উচ্চগতির করিডরের সংখ্যাও নগণ্য থেকে বেড়ে ২,৪৭৪ কিলোমিটারে পৌঁছেছে।
রূপান্তরের নেপথ্যে: ভারতমালা প্রকল্প, পিএম গতি শক্তি এবং অর্থনৈতিক করিডরের মতো দূরদর্শী উদ্যোগ ভারতের লজিস্টিক ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে তুলেছে। এটি শুধু যাতায়াত সহজ করেনি, বরং সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করে দেশের অর্থনৈতিক সংযোগকে নতুন গতি দিয়েছে। অবকাঠামোকে এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মোদীর শাসনকালের এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যার পার্থক্য নয়, এটি একটি নতুন ভারতের নির্মাণকৌশল।





