ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১০ জুন, ২০২৬, বুধবার তিনি পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর দীর্ঘদিনের রেকর্ড ছাপিয়ে ভারতের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতায় থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী’র খেতাব অর্জন করলেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৪৩৯৯ দিন পূর্ণ করে তিনি এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন।
ক্ষমতার দীর্ঘ পথচলা ও তুলনা: পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত টানা ৪৩৯৮ দিন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই রেকর্ড ভেঙে মোদির এই দীর্ঘমেয়াদী শাসনকাল ভারতীয় গণতন্ত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সময়কাল কেবল সংখ্যার নিরিখে নয়, বরং ভারত যে দ্রুত গতিতে অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তার প্রতিফলন।
ব্যবসার সংজ্ঞা বদল ও অর্থনৈতিক রূপান্তর: প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ১২ বছরের শাসনামল ভারতের ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এই পরিবর্তনের মূল ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে তিনটি বিষয়:
বাজার থেকে উৎপাদক: একসময়ের ‘বাজার-নির্ভর’ অর্থনীতি থেকে ভারতকে ‘উৎপাদনমুখী’ (Manufacturing Hub) হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের মাধ্যমে ইস্পাত কারখানা থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে ভারত এখন বিশ্বে শক্তিশালী অবস্থানে।
স্টার্টআপ বিপ্লব: ২০১৪ সালে যেখানে হাতেগোনা স্টার্টআপ ছিল, আজ ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। সরকারি নীতি, সহজ ঋণ সুবিধা (মুদ্রা লোন) এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
ব্যবসার সহজীকরণ (Ease of Doing Business): বিভিন্ন জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সরলীকরণ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে আরও গতিশীল করা হয়েছে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা যুবকরা আজ ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছেন, যা এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় সাফল্য।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব: নেহরু ও মোদির শাসনকাল দুটি ভিন্ন সময়ের সাক্ষী। একদিকে স্বাধীনতার ঠিক পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নিয়ে দেশ গড়ার কাজ, অন্যদিকে একুশ শতকের ডিজিটাল ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লড়াই। মোদির এই রেকর্ড কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও বড় একটি বার্তা—ভারতীয় ভোটারদের নিরবচ্ছিন্ন আস্থা এবং একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা।





