‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর স্লোগানকে ছাপিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল ফোকাস ‘নারীশক্তি’। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নকেই তাঁর প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এই লক্ষ্যপূরণের পথে তিনি ঠিক কাকে টেক্কা দিলেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
মোদীর স্বপ্নপূরণ ও নারীর ক্ষমতায়ন: প্রধানমন্ত্রী বারবার উল্লেখ করেছেন যে, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা অর্থাৎ নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই লক্ষ্যে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ থেকে শুরু করে নারী সংরক্ষণ বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) পাশ করানো পর্যন্ত—প্রতিটি পদক্ষেপই মোদীর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। সরকার মনে করছে, এই সিদ্ধান্তগুলো তৃণমূল স্তরের নারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই তিনি সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন।
কাকে টেক্কা দিলেন মোদী? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদীর এই নারী-কেন্দ্রিক কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হলো বিরোধী দলগুলোকে টেক্কা দেওয়া। এর নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু কারণ:
আঞ্চলিক দলগুলোর ভোটব্যাংকে আঘাত: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল) বা নবীন পট্টনায়েকদের মতো নেতারা অতীতে নারীর ক্ষমতায়ন বা মহিলা কেন্দ্রিক প্রকল্পের মাধ্যমে নিজস্ব ভোটব্যাংক তৈরি করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এখন জাতীয় স্তরে ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সেই ভোটব্যাংক নিজের দিকে টেনে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন।
‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ ইমেজ: মোদী নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন, যিনি কেবল কথার মাধ্যমে নয়, আইনের মাধ্যমে নারীদের জন্য সংসদে আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করেছেন। এটি বিরোধী শিবিরের সেই দাবিকে ভোঁতা করে দিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে নারীদের অধিকার নিয়ে সরব ছিল কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালীন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
কংগ্রেসের ‘ভোটব্যাংক’ রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ: দীর্ঘকাল ধরে যে ভোটারদের বড় অংশ কংগ্রেসকে সমর্থন করত, তাদের কাছে বিজেপি এখন ‘নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রতীক’ হয়ে উঠেছে। রান্নার গ্যাস, শৌচালয় থেকে শুরু করে আর্থিক অনুদান—এই সরাসরি সুবিধাভোগী নারীরা এখন মোদীর অন্যতম বড় সমর্থক গোষ্ঠী।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ: মোদী এমনভাবে এই ক্ষমতায়ন কর্মসূচি সাজিয়েছেন যে, তাতে বিরোধীরা চাইলেও এর বিরোধিতা করতে পারছে না। যদি তারা বিরোধিতা করে, তবে তারা ‘নারী-বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ভয় পাচ্ছে। আর সমর্থন করলে কৃতিত্ব যাচ্ছে বিজেপির ঝুলিতে। এক কথায়, নারী ক্ষমতায়নকে ইস্যু বানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধী শিবিরের চিরাচরিত ‘তুষ্টিকরণ’ রাজনীতির জায়গাটিই পুরোপুরি দখল করে নিতে চাইছেন।
এই কৌশলের মাধ্যমে ২০২৬ এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনেও যে মোদী নারীদের বড় অংশের ভোট নিজের দিকে রাখতে মরিয়া, তা বলাই বাহুল্য।





