ভোপালের নববধূ ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যু মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন জট আরও বাড়ছে। ১২ মে ভোপালের বাড়ি থেকে ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই এই ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সম্প্রতি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মুখ খুলেছেন ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং। তিনি দাবি করেছেন, মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজস্থানের আজমের সফর নিয়ে তাঁদের মধ্যে চরম বচসা হয়েছিল। তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের মতে, মাত্র পাঁচ মাসের বিবাহিত জীবনে তাঁদের মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নিয়মিত অশান্তি লেগেই থাকত। তবে এই আজমের যাওয়ার পরিকল্পনা ঘিরে হওয়া তর্কাতর্কিই যে শেষ পর্যন্ত এমন করুণ পরিণতির কারণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের মোড় ঘোরানো আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সমর্থ সিং পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ১৭ এপ্রিল ত্বিষার গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন তিনি। যদিও সমর্থের এই বয়ান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ত্বিষার পরিবার। তাঁদের পূর্ববর্তী অভিযোগ ছিল, অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সমর্থ বারবার প্রশ্ন তোলায় মানসিকভাবে চূড়ান্ত ভেঙে পড়েছিলেন ত্বিষা। স্বামী ও স্ত্রীর এই বিপরীতমুখী বয়ান এখন পুলিশি তদন্তের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের নির্দেশে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড রবিবার সকালে ভোপালে এসে পৌঁছেছে। আজ রবিবারই ত্বিষার দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। কেন প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলল পরিবার? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
ত্বিষার পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রথম ময়নাতদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ত্বিষার বাঁ হাত ও বাহুতে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল, কিন্তু সেই আঘাতের গভীরতা বা উৎস সম্পর্কে কোনো বিশদ তথ্য রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি, তরুণীর ঘাড় ও সারভাইক্যাল অংশের রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষাও করা হয়নি বলে অভিযোগ। পরিবারের তরফে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে ত্বিষার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এই মৃত্যু কেবল আত্মহত্যা নাকি সুপরিকল্পিত কোনো ঘটনা, তা নিশ্চিত করতেই এই দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের ওপর ভরসা রাখছে প্রশাসন। সব মিলিয়ে, এআইএমএস-এর রিপোর্টের অপেক্ষায় এখন সারা দেশের নজর ভোপালের এই রহস্যমৃত্যু কাণ্ডের দিকে।





