ত্বিষার পর লক্ষ্মী প্রিয়া! পণের বলি আরও এক তরুণী, মৃত্যুর আগে বোনকে পাঠালেন মোবাইলের পাসওয়ার্ড

ত্বিষা শর্মার মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই বেঙ্গালুরু থেকে সামনে এল পণের দাবিতে আরও এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। পণের দাবি ও অমানবিক নির্যাতনের জেরে প্রাণ দিতে হলো বছর ২৬-এর লক্ষ্মী প্রিয়াকে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির চরম পর্যায়ে পৌঁছে নিজের মোবাইলের পাসওয়ার্ড ছোট বোনকে পাঠিয়ে দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তরুণী।

২০২৩ সালের ১১ মে মাইসুরুর বাসিন্দা লক্ষ্মী প্রিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বেঙ্গালুরুর মারাঠাহল্লির এইচএএল থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রাজেশ আরাধ্যের। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই রাজেশ, তাঁর বাবা পালক্ষারাধ্য এবং মা ভাগ্যাম্মা মিলে লক্ষ্মীর ওপর পণের জন্য চাপ সৃষ্টি করত। লক্ষ্মী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর প্রায় ছ’মাস তিনি বাবার বাড়িতে থাকলেও, পরবর্তীতে পরিস্থিতির চাপে আবারও শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু নির্যাতনের মাত্রা এতটুকু কমেনি।

গত ২২ মে দুপুর আড়াইটে নাগাদ লক্ষ্মী প্রিয়া হোয়াটসঅ্যাপে নিজের ফোনের পাসওয়ার্ড ছোট বোন জয়শ্রীকে পাঠিয়ে দেন। পাসওয়ার্ড পাওয়ার পরেই সন্দেহ দানা বাঁধে পরিবারের মনে। তাঁরা তৎক্ষণাৎ লক্ষ্মীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনে কোনো সাড়া মেলেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই লক্ষ্মীর স্বামী রাজেশ পরিবারকে ফোন করে জানায়, লক্ষ্মী আর নেই। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাজেশ ও তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। সেই সঙ্গে পণনিষেধ আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কর্নাটকের বল্লারি থেকেও উঠে এল একই ধরনের মর্মান্তিক কাহিনী। ২৪ বছর বয়সী ঐশ্বর্যা নামে এক তরুণী নিজের বাপের বাড়িতে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হন। পরিবারের অভিযোগ, পশুচিকিৎসক স্বামী প্রদীপ কুমার এবং শ্বশুরবাড়ির পণের দাবি ও মানসিক নির্যাতনের জেরেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন ঐশ্বর্যা। ১৭ মে কাম্পলি এলাকা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর স্বামী প্রদীপ কুমারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সুইসাইড নোটে ঐশ্বর্যা তাঁর মৃত্যুর জন্য সরাসরি স্বামী ও শ্বশুরবাড়িকে দায়ী করে গেছেন। প্রেম করে বিয়ের দেড় বছরের মধ্যেই নির্যাতনের শিকার হয়ে বাপের বাড়ি ফিরে এসেছিলেন তরুণী, কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। একের পর এক এমন ঘটনায় রাজ্যে জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy