তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ ফের বদলের ইঙ্গিত। দলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা সভাপতির পদ থেকে আচমকাই ইস্তফা দিলেন প্রবীণ নেত্রী তথা সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই পদত্যাগের নেপথ্যে তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন নির্বাচনী কৌশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর দিকে। তাঁর অভিযোগ, দলের অন্দরে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে আইপ্যাক আসলে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাঠামো ও ঐতিহ্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
পদত্যাগপত্রে কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট লিখেছেন, “বহিরাগত এই সংস্থার পরামর্শে দলের অভ্যন্তরীণ রীতিনীতি ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা দলের সর্বনাশ করে গেছে। সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের একতরফা সিদ্ধান্ত আমার পক্ষে আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”
কাকলির এই ইস্তফাকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে ব্যাপক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক নেত্রীর এই ধরণের বিস্ফোরক পদত্যাগপত্র তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে আইপ্যাকের প্রভাব ও কর্তৃত্ব নিয়ে যে ক্ষোভ দীর্ঘ দিন ধরে চাপা ছিল, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফা তা প্রকাশ্যে নিয়ে এল।
যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জেলা রাজনীতিতে কাকলির এই সিদ্ধান্ত যে এক বড়সড় শূন্যতা তৈরি করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, দলের অন্দরের এই সংঘাত প্রশমনে শীর্ষ নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।





