তৃণমূলে মহাবিদ্রোহ! মমতার সঙ্গ ছেড়ে কেন সরব শতাব্দী রায়? মুখ খুললেন সাংসদ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন। দলের অধিকাংশ সাংসদের বিদ্রোহে কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে মমতার সংসদীয় দল। এই বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন বীরভূমের সাংসদ ও অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে ক্ষোভের সূত্রপাত থেকেই শুরু হয় এই বিদ্রোহের পথচলা, যা এখন এনডিএ-তে যোগদানের পর্যায়ে পৌঁছেছে।

কেন এই বিদ্রোহ? মুখ খুললেন শতাব্দী রায়: তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে শতাব্দী রায় স্পষ্ট করেছেন যে, দলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং অভাবের কারণেই তাঁরা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। শতাব্দী রায়ের কথায়, “দলের অন্দরে সমস্যা নিয়ে আলোচনার কোনো জায়গা ছিল না। আমরা বহুবার শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দল এবং দুর্নীতির প্রশ্নে নেতৃত্বের নীরবতা আমাদের এই বিদ্রোহের পথে ঠেলে দিয়েছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, দলের বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ কর্মীদের কণ্ঠস্বর শুনতে অনিচ্ছুক, যা দীর্ঘ মেয়াদে রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর।

সংসদীয় দলের ভাঙন ও বিদ্রোহের সমীকরণ: বর্তমানে তৃণমূলের মোট ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। লোকসভার স্পিকারের কাছে তাঁরা আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। বিদ্রোহী এই শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। এই ২০ জন সাংসদই এখন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সাথে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করতে আগ্রহী।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ব্যর্থতার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা চরমে। দলের বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগ এবং তার পরপরই সাংসদদের এই দলগত বিদ্রোহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জাতীয় রাজনীতির স্বপ্নকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।

শতাব্দী রায়ের মতো তারকা সাংসদদের এই বিদ্রোহ তৃণমূলের কাছে কেবল এক সাংগঠনিক সংকট নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতি সামলাতে আর কী কৌশল অবলম্বন করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy