তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন চরমে। দলত্যাগ এবং বিদ্রোহের হাওয়ায় যখন শাসকশিবির রীতিমতো কাঁপছে, ঠিক তখনই লোকসভার একঝাঁক বিদ্রোহী সাংসদের এনডিএ (NDA)-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা জোরালো হলো। এই বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম মুখ শতাব্দী রায় আজ প্রকাশ্যে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দিয়েছেন।
আলাদা ‘জোন’-এর দাবি: সাংসদ শতাব্দী রায় জানিয়েছেন, বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভায় তাঁদের জন্য একটি পৃথক ‘জোন’ বা ব্লক চেয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্ব এবং দলের কার্যপদ্ধতিতে তাঁরা আর আস্থা রাখতে পারছেন না। সেই কারণেই তাঁরা লোকসভায় তৃণমূলের লাইন থেকে বেরিয়ে এসে এনডিএ-র সঙ্গে থেকে তাঁদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের রূপরেখা তৈরি করতে চাইছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা, কী আশ্বাস? তৃণমূলের সংসদীয় দলের বৈঠকে এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত আলোচনায় ঠিক কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে শতাব্দী রায় বলেন, “আমরা আমাদের ক্ষোভের কথা খোলাখুলি জানিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের ধৈর্যের কথা বলেছেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সেই আশ্বাসের বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ আমরা দেখতে পাইনি। তাই এখন আর কোনো পিছুটান নেই।” শতাব্দী আরও ইঙ্গিত দেন যে, মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের দলে ধরে রাখার চেষ্টা করলেও সাংগঠনিক ব্যর্থতা ও অদূরদর্শিতার কারণে তাঁরা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এনডিএ-কে সমর্থন ও ভবিষ্যতের দিশা: শতাব্দী রায় স্পষ্ট করেছেন যে, এনডিএ-কে সমর্থন করার অর্থ কেবল রাজনৈতিক দলবদল নয়, বরং তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা। তিনি দাবি করেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা অবহেলিত ছিলাম। এখন আমরা একটি গঠনমূলক রাজনীতির অংশ হতে চাই, যেখানে উন্নয়নের কাজে কোনো রাজনৈতিক বাধা থাকবে না।”
রাজনৈতিক সমীকরণ: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শতাব্দী রায়ের এই মন্তব্য এবং আলাদা জোনের দাবি কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় শক্তিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিল। লোকসভায় যদি সত্যিই এক বড় অংশ এভাবে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় রাজনীতিতে কেবল কোণঠাসাই হবে না, বরং তাদের অস্তিত্বও সংকটে পড়বে।





