আমেরিকার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বলয় শনিবার সন্ধ্যায় এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল, যা যেন কোনো হলিউড সিনেমার চিত্রনাট্যকে হার মানায়। নিরাপত্তা বেষ্টনীর একেবারে নাকের ডগায় এক বন্দুকবাজের অতর্কিত হামলায় কেঁপে উঠল ওয়াশিংটন ডিসি। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। হোয়াইট হাউসের নর্থ লন এবং সিকিউরিটি চেকপয়েন্টের কাছে যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল, তখনই হঠাৎ গুলির শব্দে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এবিসি নিউজের সাংবাদিক সেলিনা ওয়াং তখন চত্বরের ভেতর লাইভ ভিডিও শুট করছিলেন। গুলির শব্দ শুনে প্রাণ বাঁচাতে তাঁকে তৎক্ষণাৎ মাটিতে শুয়ে পড়তে হয়। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় আতঙ্কিত হয়ে জানান, “মনে হচ্ছিল যেন কয়েক ডজন গুলি চলছে।” এনবিসি নিউজের জুলি টির্সকিনসহ সেখানে উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকরা জীবন বাঁচাতে প্রেস ব্রিফিং রুমের দিকে দৌড় দেন। প্রত্যক্ষদর্শী পর্যটক রিড এড্রিয়ান জানান, প্রায় ২৫ রাউন্ড গুলির আওয়াজ শোনা গেছে, যা প্রাথমিকভাবে বাজি মনে হলেও মুহূর্তেই আতঙ্কে রূপ নেয়।
তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলাকারী একটি ব্যাগ নিয়ে চেকপয়েন্টের সামনে আসে এবং হঠাৎ ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। তবে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পাল্টা জবাব দেয় এবং হামলাকারীকে ঘটনাস্থলেই খতম করে। এই গুলির লড়াইয়ে একজন পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। সিক্রেট সার্ভিসের কমিউনিকেশন প্রধান অ্যান্টনি গুগলিয়েলমি নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ছিলেন এবং তিনি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন।
গত এক মাসে এটি ট্রাম্পের ওপর দ্বিতীয় হামলার ঘটনা এবং সব মিলিয়ে এটি তৃতীয় বড় ধরনের চেষ্টা। জুলাই ২০২৪-এ পেনসিলভেনিয়ার র্যালি এবং ওয়েস্ট পাম বিচের গলফ কোর্সের পর এই হামলা প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি দেখে ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের ‘ইস্ট উইং’ ভেঙে সেখানে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত, ড্রোন-প্রুফ বলরুম এবং নিচে ছয় তলার আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কার তৈরির কাজ চলছে, যার ভেতরে একটি অত্যাধুনিক মিলিটারি হাসপাতালও থাকবে।
বর্তমানে পুরো হোয়াইট হাউস চত্বর কড়া নিরাপত্তা চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ফেডারেল এজেন্সিগুলি ঘটনার পেছনের মূল উদ্দেশ্য এবং বন্দুকবাজের যোগসূত্র নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। আমেরিকার রাজনীতির এই উত্তপ্ত সময়ে হোয়াইট হাউসের অন্দরে ট্রাম্প কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে জল্পনা।





