ভারতীয় রেলের যাত্রী পরিষেবায় এক ঐতিহাসিক মোড়! দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চলে আসা রেলের পুরনো ‘প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম’ (PRS) থেকে বিদায় নিতে চলেছে ভারতীয় রেল। আগামী আগস্ট মাস থেকেই ধাপে ধাপে দেশের টিকিট বুকিং ব্যবস্থা স্থানান্তরিত হতে চলেছে এক অত্যাধুনিক ও নতুন প্ল্যাটফর্মে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের তত্ত্বাবধানে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন? ১৯৮৬ সাল থেকে রেলের টিকিট বুকিংয়ের মূল ভিত্তি ছিল বর্তমান পিআরএস ব্যবস্থা। সময়ের সাথে কিছুটা আপগ্রেড করা হলেও, আধুনিক ডিজিটাল ট্রাফিকের চাপ সামলানো এর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছিল। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, নতুন সিস্টেমে সার্ভারের ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। ফলে একযোগে লক্ষ লক্ষ যাত্রী টিকিট কাটলেও কোনো বিভ্রাট ঘটবে না এবং বুকিং প্রক্রিয়া হবে অনেক দ্রুত।
‘রেলওয়ান’ অ্যাপের জয়জয়কার ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে হেঁটে গত বছর জুলাই মাসে রেল চালু করে ‘রেলওয়ান’ (RailOne) অ্যাপ। মাত্র এক বছরেই ৩.৫ কোটির বেশি ডাউনলোডের মাইলফলক ছুঁয়েছে এই অ্যাপ। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৯.২৯ লক্ষ টিকিট এই অ্যাপের মাধ্যমেই বুক করা হচ্ছে। এখন থেকে টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে ট্রেনের লাইভ স্ট্যাটাস বা অভিযোগ জানানো—সবই পাওয়া যাবে এক ছাতার তলায়।
এআই-এর মাধ্যমে কনফার্মেশনের নিশ্চয়তা নতুন এই ব্যবস্থার সবথেকে আকর্ষণীয় দিক হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ব্যবহার। রেলের নতুন ‘এআই-ভিত্তিক ওয়েটলিস্ট প্রেডিকশন’ সিস্টেমের নির্ভুলতার হার এখন ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ওয়েটিং টিকিট কনফার্ম হবে কি না, তা যাত্রীরা এখন অনেক আগেই নিখুঁতভাবে জানতে পারবেন।
যাত্রীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা এই বড় পরিবর্তনের সময় যাত্রীরা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। বর্তমানে রেলের মোট টিকিটের ৮৮ শতাংশই যেহেতু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কাটা হয়, তাই এই আধুনিকীকরণ সাধারণ যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও অনেক বেশি স্মার্ট ও সহজতর করে তুলবে বলেই আশা রেল বোর্ডের।





