বিশ্ব রাজনীতির দুই মহাশক্তিধর রাষ্ট্রপ্রধানের করমর্দন দেখল গোটা দুনিয়া। প্রায় ৯ বছর পর চিনের মাটিতে পা রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেজিংয়ের বিখ্যাত ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও রাজকীয় সম্মানে স্বাগত জানালেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই সাক্ষাৎকে ইতিমধ্যেই ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, এই বৈঠক শুধু আমেরিকা বা চিনের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের কূটনীতি ও বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে চলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরকে ঘিরে অত্যন্ত আশাবাদী চিনা প্রশাসন। বৈঠক চলাকালীন শি জিনপিং স্পষ্ট ভাষায় জানান, আমেরিকা ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক কেবল ভালো হওয়াই নয়, বরং এটি একটি নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে। ২০২৬ সালকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক এবং মাইলফলক বছর হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। চিনা প্রেসিডেন্টের কথায়, “একটি স্থিতিশীল চিন-আমেরিকা সম্পর্ক গোটা বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ। আমরা একে অপরের অংশীদার, প্রতিদ্বন্দ্বী নই।”
মজার বিষয় হলো, বৈঠকে ট্রাম্পের সুরেই সুর মেলাতে দেখা যায় জিনপিংকে। তিনি মন্তব্য করেন, চিনের পুনরুজ্জীবন এবং আমেরিকার মহান উত্থান (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন)—এই দুই লক্ষ্যই একযোগে এগিয়ে যেতে পারে।
অন্য দিকে, এই হাই-প্রোফাইল বৈঠক নিয়ে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও। জিনপিংকে নিজের ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করে ট্রাম্প বলেন, চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই বৈঠক অত্যন্ত চমৎকার এবং গঠনমূলক হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে ইতিহাসের সেরা অধ্যায়ে পৌঁছাবে এবং আমেরিকা ও চিন একসঙ্গে মিলে বিশ্বের জন্য একটি দারুণ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।
দুই দেশের মধ্যেকার পুরনো বাণিজ্যিক যুদ্ধ, শুল্ক বিতর্ক এবং তাইওয়ান ও ইরানের মতো একাধিক জটিল ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুর মাঝে ট্রাম্পের এই তিন দিনের চিন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রতিনিধি দলে এবার অ্যাপল, এনভিডিয়া ও টেসলার মতো শীর্ষ মার্কিন সংস্থার প্রধানরাও রয়েছেন, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশই এবার ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা সরিয়ে রেখে বাণিজ্যে গতি আনতে চাইছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির এই নতুন রসায়ন আন্তর্জাতিক বাজারে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





