হেলমেট নেই? তবে পকেটে টান পড়তে বাধ্য! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কড়া বার্তার পর রণংদেহি কলকাতা পুলিশ

এবার থেকে হেলমেট ছাড়া বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরোনোর আগে দশবার ভাবুন। রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক রাশ শক্ত করতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ট্র্যাফিক আইন নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই শহরজুড়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে ময়দানে নেমেছে কলকাতা পুলিশ। বিনা হেলমেটে বাইক চালানোর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন ধরপাকড়।

নবান্নে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, রাস্তায় হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক চালানো কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নির্দেশ পাওয়ার পরেই লালবাজারের নির্দেশে কোমর বেঁধে নেমেছে ট্র্যাফিক গার্ডগুলো। গত সোমবার সকাল থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র তিন দিনেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ৩,৩০২ জন বাইক আরোহীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে শহরের একদম প্রান্তিক অঞ্চল— বাদ যাচ্ছে না কেউই।

তবে পুলিশের এই প্রবল সক্রিয়তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের হুঁশ কি আদৌ ফিরছে? পার্ক সার্কাস থেকে মেটিয়াবুরুজ— আজ সকালেও চিত্রটা খুব একটা বদলায়নি। পার্ক সার্কাসের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে দেখা গেল, খুদে পড়ুয়া থেকে শুরু করে চালক, কারোর মাথাতেই হেলমেট নেই। পুলিশের খপ্পরে পড়লে অজুহাতেরও অভাব নেই। কেউ বলছেন ‘বাড়ি পাশেই’, কেউ বা বলছেন ‘জরুরি কাজ ছিল তাই তাড়াহুড়োয় ভুলে গেছি’। তবে লালবাজারের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনো অজুহাতই আর ধোপে টিকবে না।

লালবাজার সূত্রে খবর, পার্ক সার্কাস, রাজাবাজার, এন্টালি, শ্যামবাজার ও গড়িয়াহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ভাঙড় ও কসবা এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়েছে জোরদার ‘নাকা চেকিং’। শুধু জরিমানা করাই লক্ষ্য নয়, স্থানীয় থানার সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাইক আরোহীদের হেলমেট পরা নিশ্চিত করাই এখন পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ। শহরের প্রতিটি ট্র্যাফিক গার্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আইন ভাঙলে যেন বিন্দুমাত্র রেয়াত না করা হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy