পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মাঝেই মোদীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরব আমিরশাহীর সঙ্গে মহা-চুক্তি

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) সফরে গিয়ে এক মস্ত বড় কূটনৈতিক সাফল্য হাসিল করল ভারত। পাঁচ দেশীয় সফরের প্রথম দফায় আবুধাবিতে পা রেখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একের পর এক বড় চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। আবুধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো চূড়ান্ত হয়।

বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে ভারতের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ও এলপিজি (LPG) সরবরাহের পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে ভারতে জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত এক ধাক্কায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছে যাবে, যা বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়লেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখবে। একই সঙ্গে ভারতের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বড় ঘোষণাও করেছে আমিরশাহী।

আবুধাবিতে প্রতিনিধি পর্যায়ের এই আলোচনা চলাকালীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “ভারত সব পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।” পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে আমিরশাহীর ওপর হওয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি মোদী স্পষ্ট করে দেন, যেকোনো সংকটে ভারত তার এই বিশ্বস্ত বন্ধুর পাশে খাড়া থাকবে। আরব আমিরশাহীও যেভাবে সে দেশে বসবাসকারী ৪৫ লক্ষ ভারতীয়কে ‘পরিবারের মতো’ আগলে রেখেছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের চলমান তীব্র সংঘাতের কারণে যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মোদীর এই আমিরশাহী সফর অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। একদিকে এলপিজি ও অপরিশোধিত তেলের নিশ্চিত জোগান, অন্যদিকে ভারতের প্রতিরক্ষায় নতুন কৌশলগত অংশীদারিত্ব— সব মিলিয়ে দিল্লির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও মজবুত করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy